আমার নিরাপত্তা নিয়ে পরিবার উদ্বিগ্ন: প্রেস সচিব
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) ২০২৫, আপডেট ২২:৫০
ভয়াবহ হামলার শিকার ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রার্থনা জানিয়ে চাকরির ১৬ মাস পূর্তিতে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক স্ট্যাটাসে প্রেস সচিব বলেন, ‘আজ আমার এই দায়িত্বের ১৬ মাস পূর্ণ হলো। লেখার মতো মানসিক অবস্থায় ছিলাম না। কিন্তু গতকালের (শুক্রবার) জঘন্য গুলির ঘটনার পর থেকে ওসমান হাদি আমার চিন্তায় ও প্রার্থনায় আছেন। আমার স্ত্রী, সন্তান এবং ভাইবোনেরা আমার নিরাপত্তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত। তারা চান নির্বাচনের আগে যেন আমি বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করি এবং আমার কণ্ঠস্বর কিছুটা নরম করি। তারা ভীত।’
তবে তিনি সাহসের সঙ্গে বলেছেন, ‘সত্যি বলতে, আমি নই।
দেশের প্রতিটি প্রান্তে ভ্রমণ করেন জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, আমি যেখানেই যাই, সেখানেই লাখ লাখ হাদিকে দেখতে পাই। ‘হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল–বাংলার কসাইরা–তাদের মধ্যে আর কতজনকে হত্যা করতে পারবে?’
তিনি বলেন, এ দেশের রাজনীতির হাল ধরেছে এক নতুন প্রজন্ম। তারা এক স্বৈরাচারকে উৎখাত করেছে, কিন্তু তাদের মিশন এখনও শেষ হয়নি।
তরুণ এই প্রজন্মের প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশ করে শফিকুল আলম বলেন, এই প্রজন্মের কোটি কোটি হাদি যতক্ষণ তাদের অবস্থান ছাড়তে অস্বীকার করবে, ততদিন আমি ভয় পাওয়ার কোনো কারণ দেখি না। আশা হারানোর কোনো কারণ দেখি না।’
জুলাই শহীদদের প্রেরণার কথা স্মরণ করে প্রেস সচিব বলেন, ‘আনাসের মতো, যে শাহাদাত বরণের আগে তার মাকে একটি হৃদয়বিদারক চিঠি লিখেছিল, এই তরুণরা তাদের পরিবারের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছে যে, এই জাতিকে ঠিক না করা পর্যন্ত তারা থামবে না।’
শফিকুল আলম বলেন, আমি নিশ্চিত, আগামী দশকগুলোতে বাংলাদেশ পথ হারাবে না। সামনে ধাক্কা থাকবে। শক্তিশালী বিদেশি ও দেশীয় শক্তি সাময়িকভাবে ইঞ্জিন বিকল করার চেষ্টা করবে। কিন্তু এ তরুণরা ভয় পায় না। তারা গন্তব্যে পৌঁছাবেই।
তিনি বলেন, জুলাই ও আগস্টে আমরা হারিয়েছি আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, আনাস, আহনাফ, ফাইয়াজ, দীপ্ত দে, নাইমা ও রিয়া গোপেকে। বিদেশি চাপিয়ে দেওয়া এক স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রামে আমরা হারিয়েছি আবরার ফাইয়াজকেও। তবু চারদিকে ছড়িয়ে আছে লাখ লাখ হাদি ও নাবিলা। তারা ভয় পায় না। আমিও না।
ইউডি/এবি

