‘শঙ্কা’ নিয়েই ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা জাতীয় পার্টির
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ২০২৫, আপডেট ২২:০০
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ‘পাতানো’ হবে বলে মনে করলেও ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা বলছেন জি এম কাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী।
তিনি বলেছেন, “আইনশৃঙ্খলার যে পরিস্থিতি, আর সরকারের লোকজনের হুমকি ধামকির মধ্যে কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না। সরকার রাতের ভোট অথবা দিনের ভোট অথবা ভোটের পরে ভোট অথবা মিডিয়া ক্যু অথবা মিডিয়া ভোট করতে পারে।”
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছিলেন মহাসচিব শামীম পাটোয়ারী।
তিনি বলেন, “একটা ক্রান্তিকালে এবং একটা টার্নিং পয়েন্টে আমরা দাঁড়িয়ে আছি। দেশের বর্তমানে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক। আমরা যতগুলো ভোট দেখেছি, ১২টি ভোটের মধ্যে ৯টিতে জাতীয় পার্টি অংশগ্রহণ করেছে।
“কোনো ভোটের দু-মাস আগে এত খারাপ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল বলে আমার মনে হয় না। ভোটের আগে রাজনৈতিক সমঝোতা করতে হয়। ভোটের আগে উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে হয়, নরমালাইজেশন প্রসেস করতে হয়, ভোটের আগে প্যাসিফিকেশন করতে হয়। আমরা দেখেছি উত্তেজনার পারদ বাড়ছে এবং সে পারদটি কমানোর জন্য সরকার নির্বাচন কমিশন বা অন্যান্য স্টেকহোল্ডার যথাযথ ভূমিকা নিচ্ছে না।”
সদ্য সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের কথা তুলে ধরে শামীম পাটোয়ারী বলেন, “তিনি বলেছেন লাশের বদলে লাশ পড়বে। আগে বলেছিলেন, প্রশাসন যখন সাজিয়েছিলেন, তখন সেখানে জামায়াতে ইসলামী এবং বিএনপি তাদের ইচ্ছামত লোক দিয়ে প্রশাসন সাজিয়েছে।
“আমরা আশঙ্কা করছি, একটি পাতানো নির্বাচন হতে পারে, একটা ইঞ্জিনিয়ারিং ইলেকশন হতে পারে।… কোনো আশঙ্কাকে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।”
আওয়ামী লীগ আমলে দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টি ছিল প্রধান বিরোধী দল। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির সমঝোতা এবং সংসদে ভূমিকার জন্য এইচ এম এরশদ প্রতিষ্ঠিত এ দল ‘গৃহপালিত বিরোধী দলের’ তকমা পায়।
চব্বিশের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে জাতীয় পার্টিকে তার খেসারত দিতে হচ্ছে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপ বা নির্বাচন কমিশনের সংলাপে দলটিকে ডাকা হয়নি। রাজনৈতিক কর্মসূচি চালাতে গিয়ে তারা বাধার মুখে পড়েছে। এমনকি ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে জাতীয় পার্টিকেও নিষিদ্ধ করার দাবি তোলা হয়েছে।
সেরকম কোনো নিষেধাজ্ঞা না আসায় কাগজে কলমে জাতীয় পার্টির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ খোলা থাকলেও আদৌ প্রার্থীরা প্রচার চালাতে পারবেন কি না, সেই শঙ্কায় আছে দলটি।
জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সভায় সকলের মতামতের ভিত্তিতে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে মহাসচিব বলেন, “তবে আমরা মনে করি প্রতিনিয়ত পথ পরিবর্তন হতে পারে। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী প্রশাসনকে সুষ্ঠু ভোটের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। আহ্বান জানাচ্ছি যেন সকলে মিলে একটি ভোটের পরিবেশ করে। আহ্বান জানাচ্ছি সকলে মিলে যেন একটা সমঝোতা করে, সকলে মিলে যেন একটা ঐকমত্য সৃষ্টি করে।”
ইউডি/এবি

