হাদি হত্যা: দু’জনকে মেঘালয়ে আটক করা প্রসঙ্গে যা বলছে ডিএমপি
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, আপডেট ২৩:৪৩
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই সন্দেহভাজন সীমান্ত পেরিয়ে ইন্ডিয়ার মেঘালয় রাজ্যে প্রবেশ করেছে বলে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) যে দাবি করেছে, তা মেঘালয় পুলিশ ও ইন্ডিয়ার সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) নাকচ করে দেয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে দেয়া তথ্য স্পষ্ট করেছে ডিএমপি।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে ডিএমপির ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এক বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য স্পষ্ট করেন।
তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান দুই সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম ও আলমগীর শেখকে সীমান্ত পার করে ইন্ডিয়ার পৌঁছে দিতে যারা সহযোগিতা করেছে, তাদের মধ্যে কয়েকজনকে আমরা গ্রেফতার করেছি। তাদের দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতেই আমরা জানিয়েছি যে, এই হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট অপরাধীরা সীমান্ত অতিক্রম করেছে।
তালেবুর রহমান বলেন, এছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় আমাদের একাধিক সূত্র জানিয়েছে যে, এই অপরাধীদের ইন্ডিয়র প্রবেশ ও আশ্রয় দিতে সহযোগিতা করেছে—এমন দুই ব্যক্তিকে মেঘালয় কর্তৃপক্ষ আটক করেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই আমরা ওই দুই ব্যক্তিকে আটকের খবর প্রকাশ করেছি।
ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, সংশ্লিষ্ট সকল অপরাধীকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ভারত সরকার পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবে।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মো. নজরুল ইসলাম জানান, হাদি হত্যার মূল সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম ওরফে দাউদ খানের দুই সহযোগীকে মেঘালয় পুলিশ আটক করেছে। পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, হাদি হত্যা মামলার মূল আসামি ফয়সাল ইন্ডিয়ার মেঘালয়ে পালিয়ে গেছেন। মেঘালয় পুলিশ তার দুই সহযোগীকে আটক করেছে।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনের ভাষ্য, মেঘালয় পুলিশ ও বিএসএফের জ্যেষ্ঠ দুই কর্মকর্তা বাংলাদেশ পুলিশের এই দাবিকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করেছেন। মেঘালয় পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে মেঘালয় পুলিশের ‘আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কোনো যোগাযোগ’ হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিবেদনে উল্লিখিত দুই আসামির কাউকে গারো পাহাড় এলাকায় শনাক্ত কিংবা গ্রেফতার করা হয়নি।
আর মেঘালয়ের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ইন্সপেক্টর জেনারেল ওপি উপাধ্যায় বাংলাদেশ পুলিশের দাবিকে ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, হালুয়াঘাট সেক্টর থেকে সন্দেহভাজনদের আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে মেঘালয়ে প্রবেশের কোনো প্রমাণ নেই।
৩২ বছর বয়সি ওসমান হাদি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণাকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। এরপর পরিবারের ইচ্ছায় সেখান থেকে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সবশেষ গত ১৫ ডিসেম্বর দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয় ওসমান হাদিকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
ইউডি/এআর

