সরিষার হলুদে রঙিন সাতক্ষীরা, মাঠে মাঠে মধু সংগ্রহের প্রস্তুতি

সরিষার হলুদে রঙিন সাতক্ষীরা, মাঠে মাঠে মধু সংগ্রহের প্রস্তুতি

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারি , ২০২৬, আপডেট ১৩:৫৭

শীতের সকালে সরিষা ফুলের হলুদ রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ মাঠ। ফুলের রেণু সংগ্রহে মৌমাছির অবিরাম যাতায়াতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে গ্রামবাংলা। চলতি মৌসুমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরিষা ক্ষেতের পাশে প্রায় ১০ হাজার মৌ-বক্স স্থাপন করা হয়েছে। এসব মৌ-বক্স থেকে প্রায় ৭৫ মেট্রিক টন মধু উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে সাতক্ষীরায় ১৯ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছিল। ২০২৪ সালে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে আবাদ কমে ১৭ হাজার ৫৩১ হেক্টরে নেমে আসে। তবে চলতি ২০২৫ মৌসুমে আবারও আবাদ বেড়ে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে। সদর, তালা, কলারোয়া ও দেবহাটা উপজেলায় সরিষার আবাদ তুলনামূলক বেশি হয়েছে।

তালা উপজেলার কৃষক আব্দুল কাদের জানান, তিনি এবার তিন বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ফসল ভালো হয়েছে, কিন্তু খরচ বেড়ে গেছে। গত বছর যে সার ১৭ টাকায় কিনেছি, এবার সেটাই ৩০ টাকায় কিনতে হয়েছে। যদি ন্যায্যমূল্য না পাই, তাহলে লাভ তো দূরের কথা, খরচই উঠবে না।

কলারোয়ার সরিষা চাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, আশ্বিন মাস থেকেই জমি প্রস্তুত করতে হয়। প্রতি বিঘা জমিতে ৫ থেকে ৬ মণ সরিষা উৎপাদন হলেও উৎপাদন খরচ ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, কৃষি উপকরণ সংকট ও সময়মতো সহযোগিতা না পাওয়ায় অনেক কৃষকই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

এদিকে সরিষা ফুল মৌচাষিদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। সাতক্ষীরা জেলা মৌচাষি ও মধু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন, সরিষা ফুলের কারণে এবার মধুর স্বাদ ও মান দুটোই ভালো হবে। কৃষক ও মৌচাষি—দুই পক্ষই এতে উপকৃত হচ্ছে। সরকারি সহযোগিতা বাড়লে সাতক্ষীরার মধু বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিটি মৌ-বক্স থেকে মৌসুমে পাঁচ থেকে সাতবার মধু সংগ্রহ করা যায়। বর্তমানে সরিষা ফুলের প্রতি মণ মধু ১৫ থেকে ১৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে ২৮ জন মৌচাষি প্রায় ১০ হাজার মৌ-বক্স পরিচালনা করছেন এবং লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৭৫ মেট্রিক টন মধু উৎপাদন সম্ভব হবে।

ভেজাল মধু ঠেকাতে জেলা নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর ভ্রাম্যমাণ ল্যাবের মাধ্যমে নিয়মিত পরীক্ষা চালাচ্ছে। জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা দীপংকর দত্ত বলেন, ভেজাল প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌ-বক্স বসানোর ফলে পরাগায়ন বৃদ্ধি পায় এবং এতে সরিষার ফলন ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে। সরিষার পাশাপাশি বরই, লিচু ফুল ও সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় মৌ-বক্স স্থাপন করে সারা বছর মধু সংগ্রহ করেন ভ্রাম্যমাণ মৌচাষিরা। এ খাতে সাতক্ষীরায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে বলে দাবি কৃষি বিভাগের।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading