আমেরিকাকে সতর্ক করে যা বলল ইরান
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ০৫ জানুয়ারী, ২০২৬, আপডেট ১৯:১০
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আমেরিকার বিরুদ্ধে মাদুরোকে ‘অপহরণ’-এর অভিযোগ তুলে সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের পথ আরও প্রশস্ত করবে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) তেহরানে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট আইনি দিক নিয়ে বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, এই ঘটনা কেবল একটি দেশের বিষয় নয়; বরং জাতিসংঘের সব সদস্য রাষ্ট্রের জন্যই উদ্বেগের। আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে যদি স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া না জানানো হয়, তবে তা অপরাধীদের আরও সাহসী করে তুলবে।
বাঘাই জোর দিয়ে বলেন, ইরানের অবস্থান কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির পক্ষে নয়, বরং নীতিগত প্রশ্নে। ‘একটি দেশের প্রেসিডেন্টকে অপহরণ করা কোনোভাবেই বৈধ বা গর্বের বিষয় হতে পারে না,’ বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই মুক্তি দিতে হবে। ইতোমধ্যে বহু দেশ এ বিষয়ে অবস্থান নিয়েছে উল্লেখ করে বাকায়ি বলেন, জাতিসংঘ সনদের রক্ষক হিসেবে জাতিসংঘ মহাসচিবের এ ক্ষেত্রে বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে।
ইরানের এই মুখপাত্র সতর্ক করে বলেন, স্পষ্ট ও জোরালো প্রতিক্রিয়ার অভাব শেষ পর্যন্ত পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কোনো দেশের জাতীয় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন কখনোই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সব নীতির পরিপন্থি।
উল্লেখ্য, কয়েক মাস ধরে হুমকি ও চাপ প্রয়োগের পর গত শনিবার আমেরিকা ভেনেজুয়েলায় বোমা হামলা চালিয়ে দেশটির সরকার উৎখাত করে এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে একটি আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিচার শুরুর প্রস্তুতি চলছে।
খবরে বলা হয়, আমেরিকার বাহিনীর হাতে ‘আটক’ হওয়ার পর শনিবার সন্ধ্যায় মাদুরোকে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মাদুরোর আটককে ‘অপহরণ’ আখ্যা দেন এবং বলেন, ‘মাদুরোই ভেনেজুয়েলার একমাত্র বৈধ প্রেসিডেন্ট।’
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলা ‘পরিচালনা’ করবে এবং দেশটির বিশাল তেলসম্পদ ব্যবহার করবে। তবে কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
এই পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, আমেরিকার এই পদক্ষেপ একটি ‘বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত’ স্থাপন করেছে। সূত্র: তাসনিম নিউজ
ইউডি/এআর

