১৬ লাখ টাকা আয় কীভাবে- ব্যাখ্যা দিলেন নাহিদ ইসলাম
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ০৭ জানুয়ারী, ২০২৬, আপডেট
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নির্বাচনি হলফনামায় নিজের বাৎসরিক আয় ১৬ লাখ টাকা দেখানো নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারের জবাব দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, তার আয় ও সম্পদের তথ্য সম্পূর্ণ বৈধ, নথিভুক্ত ও আয়করযোগ্য।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে নাহিদ ইসলাম এ ব্যাখ্যা দেন।
পোস্টে বলা হয়, তার আয় ও সম্পদ নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং একজন স্বচ্ছ রাজনীতিবিদকে সন্দেহের মুখে দাঁড় করানোর রাজনৈতিক চেষ্টা।
নাহিদ ইসলাম জানান, হলফনামায় উল্লেখ করা ১৬ লাখ টাকা কোনো হঠাৎ প্রাপ্ত অর্থ নয়। এটি ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন) মোট আয়ের হিসাব।
ওই সময়ের প্রায় সাত মাস তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত বেতন-ভাতা পান।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মোট আয়ের মধ্যে প্রায় ১১ লাখ টাকা এসেছে উপদেষ্টা হিসেবে পাওয়া বেতন ও ভাতা থেকে, যা ব্যাংক চ্যানেলের মাধ্যমে পরিশোধিত এবং সম্পূর্ণ আয়করযোগ্য।
বাকি অর্থ এসেছে উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের পর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করার সম্মানী থেকে, যারও কর হিসাব রয়েছে।
মোট সম্পদ প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৩২ লাখ টাকা, যা এক বছরের আয় নয়; বরং প্রায় ২৭ বছরের জীবনের সঞ্চয়ের সমষ্টি।
এর মধ্যে রয়েছে বেতন থেকে জমানো সঞ্চয়, পূর্ববর্তী সেভিংস, পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে পাওয়া উপহার, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র এবং ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্য।
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিয়ে চলমান আলোচনার জবাবে তিনি জানান, বর্তমানে তার মাত্র দুটি ব্যাংক হিসাব রয়েছে—একটি সোনালী ব্যাংকে এবং আরেকটি নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহের জন্য ২৮ ডিসেম্বর সিটি ব্যাংকে খোলা।
উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের সময় তার ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১০ হাজার টাকা ছিল। পরবর্তীতে মন্ত্রীদের আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ অর্থ ওই অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ায় ব্যালেন্স বৃদ্ধি পায়, যা হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।
পেশা সংক্রান্ত বিভ্রান্তির প্রসঙ্গেও তিনি স্পষ্ট করেন যে, হলফনামায় কোথাও তার পেশা হিসেবে শিক্ষকতা উল্লেখ নেই।
তার পূর্ববর্তী পেশা ছিল সরকারের উপদেষ্টা এবং বর্তমানে তিনি কনসালট্যান্সিকে পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি একটি বেসরকারি টেক ফার্মে কৌশলগত ও নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেন, যা বৈধ ও স্বীকৃত পেশা।
নাহিদ ইসলাম বলেন, তার আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত সব তথ্য আয়কর রিটার্ন ও নির্বাচনি হলফনামার মাধ্যমে আইনগতভাবে যাচাইযোগ্য।
সীমিত সম্পদ ও স্বচ্ছ আয়ের ঘোষণাই প্রমাণ করে যে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার বা অবৈধ সম্পদ সঞ্চয়ের রাজনীতির বাইরে রয়েছেন।
ইউডি/এআর

