উচ্চশিক্ষা গণতন্ত্র ও জনকল্যাণের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি করে: শিক্ষা উপদেষ্টা
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ০৭ জানুয়ারী, ২০২৬, আপডেট :৪০
উচ্চশিক্ষা কেবল শিক্ষা গ্রহণই নয়, বরং তা সমাজ, গণতন্ত্র ও জনকল্যাণের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি করে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা প্রফেসর ড. সি আর আবরার।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) ২৬তম সমাবর্তনে তিনি এ কথা বলেন।
প্রফেসর আবরার বলেন, এনএসইউর গ্র্যাজুয়েটরা বিশ্বের এমন এক অংশ, যাদের প্রভাব ক্যাম্পাসের সীমা ও বাংলাদেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বহুদূর বিস্তৃত।
তিনি ঢাকা, সিঙ্গাপুর, লন্ডন, টরন্টো ও সিডনির মতো শহরে ব্যবসা, অর্থনীতি, আইন, প্রযুক্তি, উন্নয়ন, গণমাধ্যম, শিক্ষা ও জননীতিতে এনএসইউ অ্যালামনাসদের নেতৃত্বের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, নেতৃত্ব কেবল পেশাগত সাফল্য বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সংকটের সময়ে নেতৃত্বের প্রকৃত পরীক্ষা হয়।
জুলাই ২০২৪-এর ছাত্র নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে প্রফেসর আবরার একে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দৃশ্যমান ও সাহসী অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখ করার মত।
তিনি ওই আন্দোলনে শহীদ ও আহত সকলের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং বিশেষভাবে এনএসইইউর ছাত্র শহীদ আবিরকে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, ‘তার মৃত্যু আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে গণতান্ত্রিক সংগ্রামের একটি বাস্তব মানবিক মূল্য রয়েছে।’
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা তুলে ধরে প্রফেসর আবরার বলেন, এনএসইউর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্র্যাজুয়েট তৈরি করছে এবং জাতীয় ও বৈশ্বিক সক্ষমতা উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি বাংলাদেশের প্রথম দিককার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অগ্রণী ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, এর একাডেমিক মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক সুনাম কেবল অবকাঠামো ও বৈশ্বিক সংযোগের মাধ্যমে নয়, বরং এর শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধ ও আচরণের মাধ্যমেই গড়ে উঠেছে।
একই সঙ্গে তিনি বেসরকারি উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার উচ্চ ব্যয় এখনো বহু মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
’সমাবর্তনে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের তিনি বলেন, ‘সাফল্য যেন কেবল আয় বা পদমর্যাদার ভিত্তিতে না হয় , বরং তা যেন সমাজে তার কতটুকু অবদান আছে তা যেন মূল্যায়ন করা হয়।’
সমাপনী বক্তব্যে প্রফেসর আবরার শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং সততা ও সচেতনতার সঙ্গে তাদের শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে সফল কর্মজীবন গড়ার পাশাপাশি একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই সমাবর্তনে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস এম এ ফয়েজ সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন এবং কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
ইউডি/এআর

