হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে কুড়িগ্রাম, বীজতলা নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে কুড়িগ্রাম, বীজতলা নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১০:৫০

মৃদু শৈত্যপ্রবাহে শীত ও হিমাল হাওয়ায় কনকনে ঠান্ডায় উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে জনজীন স্থবির হয়ে পরেছে। এতে করে খেটে খাওয়া দিনমজুর পরেছেন বিপাকে। বোরো ধানের বীজতলা নিয়ে চিন্তায় কৃষকরা।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাজারহাট আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, আজ সকাল ৭টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ।

জেলাটিতে গত দুই ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। সড়কগুলোতে দুর্ঘটনা এড়াতে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। সকালে সূর্যের দেখা না মেলায় তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডায় চরম বিপাকে পরেছেন খেটে-খাওয়া দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষজন।

ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে বোরো ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বোরো ধানের বীজতলার চারা বিবর্ণ হয়ে হলুদ ও লালচে রং ধারণ করছে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পৌর শহরের ভেলা কোপা এলাকার কৃষক আমিন মিয়া (৬০) বলেন, এমন শীত ও ঘন কুয়াশা কারণে চারা বড় হচ্ছে না। কিছু বীজতলায় ধান থেকে চারা জন্মায়নি। যদিও কিছু চারা গজিয়েছে কিন্তু টানা কয়েক দিনের তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা কারণে হলুদ ও লালচে রং হয়েছে। এমন পরিস্থিতি বেশি দিন থাকলে চারা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বীজতলা নিয়ে চিন্তায় আছি।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে ,চলতি মৌসুমে ১ লাখ ১৭ হাজার ৩শ’ ৬৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বোরো ধানের বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা করা হয়েছে ৫ হাজার ৫শ’ ৫০ হেক্টর। তবে এর চেয়েও কয়েক হাজার বীজতলা রয়েছে।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবদুল্লা আল মামুন বলেন, তীব্র এই শীত ও ঘন কুয়াশায় বিভিন্ন এলাকার বীজতলা পরির্দশন করেছি তেমন কোনো ক্ষতি এখনো হয়নি। তবে কোনো কোনো বীজ তলা হলুদ বর্ণ হলেও রোদ উঠলে তা ঠিক হয়ে যাবে। আমরা কৃষকদের তীব্র শীতে বীজতলার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে জিপসাম, পটাশ, জিংক কুইক ও চিলেটেড জিংক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বীজতলায় সকালে রশি টেনে শিশির ঝরানো, রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা, সন্ধ্যায় পানি জমিয়ে রেখে সকালে নিষ্কাশন করে দেওয়া ও গভীর নলকূপ দিয়ে পুনরায় পানি সেচ দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে

রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, আজ সকালে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ। তাপমাত্রা আরও নিম্নগামী হয়ে জেলা জুড়ে মৃদু শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading