দুর্নীতি বন্ধে সুপ্রিম কোর্টের কড়া হুঁশিয়ারি

দুর্নীতি বন্ধে সুপ্রিম কোর্টের কড়া হুঁশিয়ারি

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী, ২০২৬, আপডেট ১৫:৩৫

দুর্নীতি বন্ধে সুপ্রিম কোর্টের কড়া হুঁশিয়ারি
সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও সততা বজায় রাখতে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

বুধবার (৮ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে আদালতের অভ্যন্তরে দুর্নীতি বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

দাপ্তরিক কাজের গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা ফেরাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বেশ কিছু নির্দেশনা পালন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্ধারিত অফিস সময়সূচি অনুযায়ী সকাল ৯টায় কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত সময়ের আগে কোনোভাবেই কর্মস্থল ত্যাগ করা যাবে না। বিলম্ব উপস্থিতি এবং অনুমতি ছাড়া প্রস্থানকে ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ ডেস্কে সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকতে হবে এবং কোনো কাজ অনিষ্পন্ন রাখা যাবে না।

সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চ্যাপ্টার-XVIA-এর বিধি ৩-এর দফা ৪ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি (আইনজীবী বা আদালতের কর্মীসহ কেউ) আদালত প্রাঙ্গণে বা ভবনের কোনো অংশে মিছিল, স্লোগান, প্রচার, সভা বা বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এ ছাড়া আদালত প্রাঙ্গণে বৈধ বা অবৈধ যেকোনো অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকদ্রব্য বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার স্বার্থে নির্ধারিত পার্কিং ছাড়া অন্য কোথাও গাড়ি বা রিকশা রাখা যাবে না।

অফিস চলাকালীন সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্ধারিত ফরমাল পোশাক পরিধান করতে হবে। দাপ্তরিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অফিস আইডি কার্ড সাথে বহন করতে হবে এবং তা দৃশ্যমান রাখতে হবে।

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করে। সেবাগ্রহীতাদের সাথে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন বা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিতে নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শাখা প্রধান এবং সহকারী রেজিস্ট্রাররা হাজিরা খাতা ও ড্রেস কোড পর্যবেক্ষণ করবেন। পাশাপাশি ডেপুটি রেজিস্ট্রাররা আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে এই আদেশ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন। এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading