চীন-রাশিয়া-ইরানের সঙ্গে দ. আফ্রিকার সপ্তাহব্যাপী নৌ মহড়া শুরু

চীন-রাশিয়া-ইরানের সঙ্গে দ. আফ্রিকার সপ্তাহব্যাপী নৌ মহড়া শুরু

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ১১ জানুয়ারি , ২০২৬, আপডেট ১৫:০০

আমেরিকার সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে চীন, রাশিয়া ও ইরানসহ আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে সপ্তাহব্যাপী যৌথ নৌ মহড়া শুরু করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নৌবাহিনীর অংশগ্রহণের কেপটাউনের উপকূলে ‘উইল ফর পিস ২০২৬’ নামের এই মহড়া শুরু হয়েছে। যা চলবে আগামী ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত।

এই মহড়া আমেরিকার সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার কূটনৈতিক সম্পর্কে উত্তেচনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে আমেরিকার বাহিনীর একের পর এক তেলের ট্যাঙ্কার জব্দ করার ঘটনার মধ্যে এই নৌ মহড়া শুরু হয়েছে। উপকূলের কাছে এই মহড়াগুলো কেবল শক্তি প্রদর্শন নয় বরং ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া।

চীনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই মহড়াগুলো কেবল সামরিক অনুশীলন নয়, বরং উদীয়মান অর্থনীতির জোট ব্রিকসের দেশগুলোর মধ্যে একটি যৌথ সংকল্পের বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেন দক্ষিণ আফ্রিকার ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্স (এসএএনডিএফ) এর জয়েন্ট অপারেশন ডিভিশনের কমান্ডার ক্যাপ্টেন নন্ডওয়াখুলু থমাস থামাহা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘এটি একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকারের প্রদর্শন।’ থামাহা আরও বলেন, ‘ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠা সামুদ্রিক পরিবেশে এ ধরনের সহযোগিতা কোনো বিকল্প নয়, এটি অত্যাবশ্যক। আমাদের উদ্দেশ্য নৌপথ এবং সামুদ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’

ব্রিকস জোটটি শুরুতে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়ে গঠিত হলেও পরে এতে মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সবশেষ ইন্দোনেশিয়া যোগ দেয়।

এই নৌ মহড়ায় চীন ও ইরান ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। রাশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত পাঠিয়েছে করভেট শ্রেণির জাহাজ। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা একটি ফ্রিগেট যোগ করেছে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়া, ইথিওপিয়া ও ব্রাজিল পর্যবেক্ষক হিসেবে মহড়ায় যোগ দিয়েছে।

এই মহড়াগুলো গত বছরের নভেম্বরেই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনের সঙ্গে সংঘাতের কারণে তা স্থগিত করা হয়। আমেরিকা ওই সম্মেলন বর্জন করে। ওয়াশিংটন দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রিকস জোটের বিরুদ্ধে ‘আমেরিকা বিরোধী’ নীতির অভিযোগ তুলেছে। বিশ্বজুড়ে আগে থেকেই আরোপিত শুল্কের ওপর সদস্য দেশগুলো অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে।

রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কসহ বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা আগেও আমেরিকার সমালোচনার মুখে পড়েছে। গাজা যুদ্ধ নিয়ে ওয়াশিংটনের মিত্র ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত- তার মধ্যে একটি।

গত বছর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে আফ্রিকানারদের (যারা শ্বেতাঙ্গ বসতিস্থাপনকারীদের বংশধর) ওপর কথিত ‘গণহত্যা’ এবং তাদের জমি বাজেয়াপ্ত করার অভিযোগও তোলেন। তবে এ অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ বলে নাকচ করে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা।

এদিকে রামাফোসার আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের (এএনসি) নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য সরকারের অন্যতম অংশ দ্য ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (ডিএ) এই মহড়ার সমালোচনা করেছে। এক বিবৃতিতে ডিএ বলেছে, ‘এই মহড়াগুলোকে ‘ব্রিকস সহযোগিতা’ বলা আসলে একটি রাজনৈতিক কৌশল, যার মাধ্যমে আসল সত্য আড়াল করা হচ্ছে। বাস্তবে সরকার রাশিয়া ও ইরানের মতো বিতর্কিত ও নিষেধাজ্ঞাভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক বেছে নিচ্ছে।’

এর আগে ২০২৩ সালে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে নৌ মহড়া আয়োজন করায়ও সমালোচিত হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। কারণ তা ইউক্রেনে মস্কোর আগ্রাসনের প্রথম বার্ষিকীর সঙ্গে মিলে যায়। এই তিন দেশ প্রথমবারের মতো যৌথ নৌ মহড়া চালায় ২০১৯ সালে।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading