বিক্ষোভকারীরা ‘আল্লাহর শত্রু’, মৃত্যুদণ্ডের হুঁশিয়ারি ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেলের
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ১১ জানুয়ারি , ২০২৬, আপডেট ১৬:০৫
ইরানে চলমান গণবিক্ষোভের মধ্যে দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিক্ষোভে অংশ নেয়া ব্যক্তিকে ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, যারা ‘দাঙ্গাকারীদের সাহায্য করেছে’ তারাও একই অভিযোগের মুখোমুখি হবে। ইরানের আইনে এ অভিযোগের শাস্তি মৃত্যুদন্ড।
ইরানের আইন অনুযায়ী, দণ্ডবিধির ১৮৬ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো গোষ্ঠী বা সংগঠন যদি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহে লিপ্ত হয়, তবে তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জেনে যারা সদস্য বা সমর্থক হিসেবে সহায়তা করেছে, তারা সরাসরি অস্ত্র হাতে না নিলেও ‘মোহারেব’ (আল্লাহর শত্রু) হিসেবে গণ্য হতে পারে। দণ্ডবিধির ১৯০ ধারায় ‘মোহারেব’-এর শাস্তি হিসেবে কঠোর দণ্ডের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মৃত্যুদণ্ড, ফাঁসি, ডান হাত ও বাম পা কেটে ফেলা অথবা স্থায়ী নির্বাসন।
সম্প্রতি ইরানের প্রসিকিউটরদের উদ্দেশে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যারা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে এবং নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে বিদেশি আধিপত্য কায়েম করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযোগপত্র প্রস্তুত করে বিচার ও কঠোর মোকাবিলার পথ সুগম করতে হবে। কোনো ধরনের শিথিলতা, সহানুভূতি বা ছাড় দেয়া চলবে না।’
ডলারের বিপরীতে রিয়ালের রেকর্ড দরপতন এবং এর প্রেক্ষিতে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর রাস্তা নামেন তেহরানের ব্যবসায়ীরা। এরপর তা তেহরানের বাইরে কারাজ, ইসফাহান, শিরাজ, কেরমানশাহসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভে অংশ নেয় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ প্রশমনে আলোচনায় বসার পাশাপাশি সীমিত সহায়তা হিসেবে প্রতি পরিবারকে মাসিক প্রায় ৭ ডলার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরপরও থামেনি বিক্ষোভ। গত কয়েকদিনে বিক্ষোভের মধ্যে কোথাও কোথাও সহিংস ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হচ্ছে। এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে।
টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই বিক্ষোভে অন্তত ৬৫ জন নিহত হয়েছেন এবং ২,৩০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)। রাজধানী তেহরানে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রয়েছে এবং বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) থেকে ফোন লাইনও বিচ্ছিন্ন।
ইউডি/রেজা

