শেষমেশ কোন দলকে কত আসন দিচ্ছে জামায়াত
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ১১ জানুয়ারি , ২০২৬, আপডেট ১৭:৪৫
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ১১ রাজনৈতিক দলের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে টানা কয়েক দিন ধরে আলোচনা ও দর–কষাকষি চলছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সমঝোতার অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী শরিক দলগুলোর জন্য মোট ১১০টি আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে।
সূত্র অনুযায়ী, জামায়াত নিজেদের জন্য মোট ১৯০টি আসন রাখতে চায়। এর মধ্যে নিজস্ব জরিপের ভিত্তিতে ১৭০টি আসনকে ‘অপরিহার্য’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে দলটি।
এই আসনগুলোতে অন্য কোনো দলকে ছাড় না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাকি ২০টি আসন নিয়েও পর্যবেক্ষণ চলছে। এসব আসনে অন্য দলকে প্রার্থী দিলে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলা কঠিন হবে—এমন বিবেচনায় ওই আসনগুলোতেও জামায়াত প্রার্থী দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
যদিও চূড়ান্ত সমঝোতা এখনো হয়নি, তবে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী শরিক দলগুলোর মধ্যে মোটামুটি একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছানো গেছে। এতে ইসলামী আন্দোলনকে ৪০টি, ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টিকে (এনসিপি) ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৫টি, খেলাফত মজলিসকে ৭টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিকে (এলডিপি) ৪টি, এবি পার্টিকে ৩টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে (বিডিপি) ২টি আসন দেওয়ার বিষয়ে জামায়াত সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন ৪০টির বাইরে আরও কয়েকটি আসন দাবি করছে। এ নিয়ে গত কয়েক দিনে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে জামায়াতের একাধিক বৈঠক হয়েছে।
সূত্র বলছে, জনপ্রিয়তা ও প্রার্থীদের যোগ্যতা বিবেচনায় নিয়ে ইসলামী আন্দোলনকে অতিরিক্ত কিছু আসন ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।এবি পার্টিকে দেওয়া তিনটি আসনের মধ্যে ফেনী-২ আসনে দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং বরিশাল-৩ আসনে সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া (ফুয়াদ) প্রার্থী হয়েছেন। এ দুটি আসনে জামায়াত প্রার্থী দেয়নি।
পটুয়াখালী-১ আসনে এবি পার্টির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আবদুল ওহাব মিনার প্রার্থী হলেও সেখানে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীও রয়েছেন; সমঝোতা চূড়ান্ত হলে জামায়াত প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারেন।
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে (বিডিপি) দেওয়া দুই আসনের মধ্যে ময়মনসিংহ-৯ আসনে দলের চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম এবং ভোলা-৩ আসনে মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম নির্বাচন করবেন।
এদিকে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান।
এসব দল এক বা দুটি আসন পেতে পারে বলে জানা গেছে।এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘আমাদের মধ্যে আরেকটু বোঝাপড়ার বাকি আছে।
অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বৈঠক হবে। এরপর আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করে জানানো হবে।’
ইউডি/এআর

