আমেরিকা হামলা চালালে ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাতের হুমকি ইরানের

আমেরিকা হামলা চালালে ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাতের হুমকি ইরানের

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২৬, আপডেট ২১:০৫

আমেরিকা নতুন করে হামলা চালালে ইরান ইসরায়েল এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও জাহাজ চলাচলের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানবে, এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যেই এই বক্তব্যে ইসরায়েলের প্রতিও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বক্তব্যে গালিবাফ বলেন, আমেরিকা সামরিক হামলা চালালে ‘অধিকৃত ভূখণ্ড’ এবং আমেরিকার সামরিক ও নৌপরিবহন কেন্দ্রগুলো ইরানের বৈধ লক্ষ্য হবে।

‘অধিকৃত ভূখণ্ড’ বলতে ইসরায়েলকে বোঝানো হয়েছে। কারণ ইরান ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় না এবং প্যালেস্টাইন ভূখণ্ড দখলকারী হিসেবে বিবেচনা করে।

এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েল সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে তিনটি ইসরায়েলি সূত্র। শনিবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠকে অংশ নেওয়া এসব সূত্র বিস্তারিত কিছু না জানালেও উচ্চ সতর্কতার কথা উল্লেখ করেছে।

ইসরায়েলি সরকারের একজন মুখপাত্র মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত বছরের জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধ হয়। ওই সংঘাতে আমেরিকা ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইরানের ওপর বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান কাতারে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।

ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় ইরান থেকে তথ্যপ্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে জাতীয় পর্যায়ে ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিক সময়ের মাত্র ১ শতাংশে নেমে এসেছে।

এর মধ্যেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, “ইরান স্বাধীনতার দিকে তাকিয়ে আছে, হয়তো আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে বেশি।

আমেরিকা সাহায্য করতে প্রস্তুত!!!”নিউ ইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল নাম প্রকাশ না করা মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ট্রাম্পকে ইরানে হামলার বিভিন্ন সামরিক বিকল্প উপস্থাপন করা হয়েছে।

তবে তিনি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প হামলার অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন।

তেহরানে সামরিক নয়, এমন লক্ষ্যবস্তুর ওপর আঘাতের বিকল্পও আলোচনায় রয়েছে।শনিবার সকালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।

এদিকে, চলমান বিক্ষোভ ঘিরে রবিবার ‘গুরুত্বপূর্ণ’ গ্রেফতারের কথা জানিয়েছে ইরানের পুলিশ। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জাতীয় পুলিশপ্রধান আহমদ-রেজা রাদান বলেন, দাঙ্গার মূল উপাদান হিসেবে চিহ্নিত কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের শাস্তি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তবে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা বা পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি।

২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ দমনে কর্তৃপক্ষ তৎপরতা জোরদার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১১৬।

নিহতদের বেশির ভাগই বিক্ষোভকারী, তবে ৩৭ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন।বিক্ষোভের শুরু হয় তীব্র মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে।

পরে তা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতাসীন ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে রূপ নেয়। সরকার এই অস্থিরতার জন্য আমেরিকা ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে।

ইউডি/এআর

ashiqurrahman7863

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading