র্যাবের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে পায়ে গুলি ও পিটিয়ে হত্যা
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ধরতে গিয়ে নৃশংস হামলার শিকার হয়েছে র্যাবের একটি আভিযানিক দল। সন্ত্রাসীদের পৈশাচিক নির্যাতনে র্যাব কর্মকর্তা নায়েব সুবেদার আব্দুল মোতালেব নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যার এই ঘটনায় আরও দুই র্যাব সদস্য ও একজন সোর্স গুরুতর আহত অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
র্যাব-৭ সূত্রে জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুরের একটি নির্দিষ্ট স্থানে সশস্ত্র এক শীর্ষ সন্ত্রাসী লুকিয়ে থাকার সংবাদের ভিত্তিতে ১৬ সদস্যের একটি দল সেখানে অভিযানে যায়।
মূল ভবনের ভেতরে চারজন সদস্য প্রবেশ করা মাত্রই ২০-২৫ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী চারদিক থেকে তাদের ঘিরে ফেলে।সন্ত্রাসীরা প্রথমে আব্দুল মোতালেবের সরকারি অস্ত্র ছিনিয়ে নেয় এবং তার পায়ে গুলি করে।
তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে অত্যন্ত অমানবিকভাবে রড, লাঠি ও কাঠ দিয়ে পিটিয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু নিশ্চিত করে।উপস্থিত সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে র্যাব সদস্যরা পাল্টা গুলি চালানো থেকে বিরত ছিলেন, যার সুযোগ নেয় ঘাতক চক্রটি।
নিহত নায়েব সুবেদার আব্দুল মোতালেবের মরদেহ বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
এছাড়া গুরুতর আহত কনস্টেবল আরিফ, নায়েক ইমাম এবং একজন সোর্সকে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।ঘটনার পর সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ ও র্যাবের অতিরিক্ত সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন।
বর্তমানে জঙ্গল সলিমপুর ও সলিমপুর-লিংক রোড এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও ঘাতকদের গ্রেপ্তারে র্যাব, পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের সমন্বয়ে এলাকায় বিশাল নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
সরকারি পাহাড় ও খাসজমি দখল করে গড়ে ওঠা জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধীদের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এলাকাটিতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘাত আরও বেড়েছে।
এর আগেও উচ্ছেদ অভিযান ও আসামি ধরতে গিয়ে প্রশাসন এবং পুলিশের ওপর একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
ইউডি/এআর

