ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে: তারেক রহমান
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি , ২০২৬, আপডেট ১৪:৪০
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “নির্বাচনের আগে একটি দল মানুষকে ফতোয়া দিয়ে, ভয় দেখিয়ে এবং ধর্মকে ব্যবহার করে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে মুসলমানদের মধ্যে শিরক ও কুসংস্কার ছড়ানোর অপচেষ্টা চলছে।”
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ঐতিহাসিক সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, “যেটার মালিক আল্লাহ, সেই জিনিস দেওয়ার বা নেওয়ার ক্ষমতা কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নেই। অথচ, নির্বাচনের আগে একটি মহল এমনভাবে কথা বলছে, যেন তারা মানুষের অধিকার ‘টিকিট’ দিয়ে দিচ্ছে। এটি শুধু প্রতারণাই নয়, বরং মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “মানুষের অধিকার আল্লাহপ্রদত্ত। ভোটের অধিকার, সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার এসবের মালিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়।”
তিনি বলেন, “আগে শুধু ভয় দেখানো হতো। এখন বলা হচ্ছে নির্বাচনের পরে আরো ভয় দেখানো হবে। এটা গণতান্ত্রিক রাজনীতি নয়, এটা হচ্ছে মানুষকে জিম্মি করে ক্ষমতা ধরে রাখার কৌশল।”
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “কিছু লোক বলছে ‘ওমুককে দেখেছি, তমুককে দেখেছি, এবার একে দেখেন।’ এই ধরনের বক্তব্য বাংলাদেশের মানুষ আগেও শুনেছে। ১৯৭১ সালে এই দেশ স্বাধীন করার সময় কারা কোন ভূমিকা রেখেছিল, কার কারণে লাখ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছিল, কার কারণে মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি হয়েছিল, সেসব ইতিহাস দেশের মানুষ ভুলে যায়নি।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে লাখ লাখ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে। যারা তখন দেশের বিরুদ্ধে ছিল, তাদের ভূমিকা জনগণ ভালো করেই জানে। আজ তারা নতুন রূপে আবার মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।”
তারেক রহমান বলেন, “এখন সময় কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও নিপীড়নের রাজনীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। দেশকে স্বৈরশাসন থেকে মুক্ত করা হয়েছে, কিন্তু সেটাই শেষ নয়। এখন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। শুধু ভোটাধিকার বা কথা বলার অধিকার দিলেই হবে না। মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিতে হবে। স্বৈরশাসনের অবসান মানে শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বরং মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনা।”
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে মানুষ ভয় নয় আস্থা নিয়ে ভোট দেবে, ধর্ম নয় অধিকার দিয়ে রাজনীতি হবে এবং ক্ষমতা নয় মানুষই হবে রাষ্ট্রের মূল শক্তি।”
ইউডি/কেএস

