বিদ্রোহী নিয়ে বিপাকে বিএনপি, জামায়াত জোটেও কাটেনি আসন সমঝোতার জট
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি , ২০২৬, আপডেট ১
পাবনার দুটি আসন বাদে দেশের ২৯৮টি নির্বাচনী এলাকায় প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠের লড়াই।
গত বুধবার প্রতীক বরাদ্দের পর দেখা গেছে, এবার ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থী।
এর মধ্যে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৩২ জন এবং স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন ২৪৯ জন।নির্বাচন কমিশন ও দলীয় সূত্র অনুযায়ী, ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২৯টিই বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিক।
আসন সমঝোতার ভিত্তিতে এবার জোটগতভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিল তারা। সমঝোতা অনুযায়ী, শরিক দলগুলোকে ১৭টি আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি।
এর মধ্যে ৫ জন শরিক নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে নেমেছেন।
তবে সমঝোতা হলেও আসনগুলোতে প্রার্থীর ছড়াছড়ি কমেনি। ২৯৮ আসনে এই জোটের মোট প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে চারশ। ফলে অধিকাংশ আসনেই জোটের একাধিক প্রার্থী একে অপরের মুখোমুখি লড়ছেন।
শরিকদের আসন ছেড়ে দিলেও নিজের দলের বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে বিএনপি। অন্তত ৩০টির বেশি আসনে বিএনপির শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। এমনকি শরিকদের ছেড়ে দেওয়া ৪টি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছেন।
৫১টি রাজনৈতিক দলের ২৯টিই বিএনপির যুগপৎ আন্দোলের শরিক। আসন সমঝোতা করে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিল এই জোট। সে হিসাবে শরিকদের ১৭টি আসন ছেড়ে দেয় বিএনপি।
যার মধ্যে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন ৫ জন। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ জোট শরিক নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, তারেক রহমান আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন, যারা বিএনপি বলে পরিচয় দেন সবাই ঢাকা-১২ আসনে কোদাল মার্কার পক্ষে কাজ করবেন।
ভোটের মাঠে নামার আগে ১০ দলীয় জোটের জন্য বড় ধাক্কা ছিল ইসলামী আন্দোলনের বেরিয়ে যাওয়া। যার মূল কারণ আসন সমঝোতা না হওয়ায়।
ইসলামী আন্দোলন বেরিয়ে গেলও অন্তত ১৩টি আসনে সুরাহা করতে পারেনি জামায়াত জোট। ৬ আসন উন্মুক্ত রাখার কথা বলা হলেও ২৯৮ আসনে জোটের প্রার্থী ৩১৩ জন।
এনসিপিকে ছেড়ে দেয়া ৭ আসনে আছে জোটের অন্য দলের প্রার্থীও। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বেরিয়ে এককভাগে নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন। ২৫৩ আসনে প্রার্থী দিয়েছে দলটি।
এছাড়া, এককভাবে ১৯২ আসনে নির্বাচন করছে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল মার্কা।
ইউডি/এআর

