মার্কিন হামলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে ফ্লাইট বাতিল একাধিক বিমান সংস্থার

মার্কিন হামলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে ফ্লাইট বাতিল একাধিক বিমান সংস্থার

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ২৪ জানুয়ারি , ২০২৬, আপডেট ১৭:৫৫

ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে সাময়িকভাবে ফ্লাইট স্থগিত করেছে একাধিক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা। ইরানের দিকে বিশাল নৌবহর এগিয়ে যাচ্ছে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের এমন মন্তব্য আসার পর এই অঞ্চলে উদ্বেগ বেড়েছে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, নেদারল্যান্ডসের বিমান সংস্থা কেএলএমও পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ইসরাইল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করেছে।

একইসঙ্গে ইরাক ও ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের আকাশসীমা ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম এনওএস।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপিকে এয়ার ফ্রান্স জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে দুবাইগামী ফ্লাইট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এয়ার ফ্রান্স আরও জানায়, তারা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে এবং ফ্লাইট সূচি নিয়ে পরবর্তীতে হালনাগাদ তথ্য দেবে।

নেদারল্যান্ডসের বিমান সংস্থা কেএলএমও জানিয়েছে, তারা পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত তেল আবিব, দুবাই, দাম্মাম ও রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত রেখেছে। পাশাপাশি ইরাক, ইরান, ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করবে না বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

যদিও ফ্লাইট স্থগিতের নির্দিষ্ট কারণ জানায়নি কেএলএম। বিষয়টি নিয়ে ডাচ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলে এনওএস জানিয়েছে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখতে আমেরিকার নৌবাহিনীর একটি ‘আর্মাডা’ বা বিশাল নৌবহর সেদিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার, সামরিক প্রস্তুতি অব্যাহত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট। মার্কিন গণমাধ্যমগুলো গত সপ্তাহে জানায়, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-কে দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম থেকে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ইরানের দিকে নজর রাখছি।’

তিনি বলেন, আপনারা জানেন, আমাদের অনেক জাহাজ সেদিকে যাচ্ছে। যদি কিছু হয় সেই প্রস্তুতির জন্য আমরা ইরানের দিকে একটি বড় ফোর্স পাঠাচ্ছি। আমি চাই না কিছু ঘটুক, কিন্তু আমরা তাদের খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছি।

তিনি এই বাহিনীকে একটি ‘আর্মাডা’ এবং ‘বিশাল নৌবহর’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে বলেন, ‘হয়তো আমাদের এটি ব্যবহার করার প্রয়োজন হবে না।’

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading