দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা ট্রাম্পের

দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা ট্রাম্পের

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৪:১০

দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, গত বছর আমেরিকার ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছিল, তা ঠিকভাবে মানা হয়নি। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। খবর বিবিসির।

গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আসা গাড়ি, কাঠ, ওষুধসহ নানা পণ্যের ওপর বর্তমানে ১৫ শতাংশ শুল্ক রয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে। একই নিয়ম অন্য সব পারস্পরিক শুল্কের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

ট্রাম্পের অভিযোগ, দক্ষিণ কোরিয়ার আইনপ্রণেতারা চুক্তিটি অনুমোদনে দেরি করছেন। অথচ আমেরিকা চুক্তি অনুযায়ী দ্রুত শুল্ক কমিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া বলছে, শুল্ক বাড়ানোর বিষয়ে তারা এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ পায়নি। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় দেশটি।

দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে কানাডায় থাকা শিল্পমন্ত্রী কিম জং-কোয়ান যত দ্রুত সম্ভব ওয়াশিংটনে গিয়ে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

গত অক্টোবরে দুই দেশের মধ্যে হওয়া চুক্তিতে দক্ষিণ কোরিয়া আমেরিকা ৩৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়। এর একটি বড় অংশ জাহাজ নির্মাণ খাতে বিনিয়োগ করার কথা ছিল। এরপরের মাসে দুই দেশ সম্মত হয়, দক্ষিণ কোরিয়া চুক্তিটি অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু করলে আমেরিকা কিছু পণ্যের শুল্ক কমাবে।

চুক্তিটি ২৬ নভেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় পরিষদে জমা দেয়া হয় এবং এখনো পর্যালোচনায় রয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে এটি অনুমোদিত হতে পারে। শুল্ক মূলত আমদানিকারক কোম্পানিগুলোকে দিতে হয়। ফলে নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে ২৫ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পরই প্রায়ই পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে শুল্ক ব্যবহার করছেন ট্রাম্প। গত শনিবার তিনি সতর্ক করে বলেন, কানাডা যদি চীনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে, তাহলে কানাডার পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে।

এর আগে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের মার্কিন পরিকল্পনার বিরোধিতা করা আটটি দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। এসব দেশের মধ্যে ব্রিটেনও ছিল। পরে তিনি গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে সরে আসেন এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কোনো চুক্তির অগ্রগতির কথা বলেন। তবে এই ঘটনায় ডেনমার্কসহ কয়েকটি ন্যাটো দেশের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়।

ইউডি/এআর

ashiqurrahman7863

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading