রাজশাহীতে বাসচাপায় নিহত ৩: চালকসহ পুলিশ হেনস্তাকারী ছাত্র গ্রেফতার
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৭:৫৮
রাজশাহীতে বাসচাপায় তিনজন নিহতের ঘটনায় বাসচালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে এই দুর্ঘটনার জেরে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ তুলে পুলিশ কর্মকর্তাকে হেনস্তার ঘটনায় মামলা হয়েছে। ওই মামলায় বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাসানুর রহমান তুহিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহী নগর পুলিশ (আরএমপি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
পুলিশ জানায়, বাসচাপায় তিন জনের মৃত্যুর ঘটনায় চালক সাইফুল ইসলামকে (৪৮) কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে সড়ক পরিবহন আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। সাইফুলের বাড়ি নাটোর সদরের কানাইখালী দক্ষিণ পটুয়াপাড়ায়।
একই সঙ্গে দুর্ঘটনার জেরে পুলিশকে হেনস্তা করার ঘটনায় বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাসানুর রহমান ওরফে তুহিনকে (২৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ হেনস্তার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। তার বাড়ি রাজশাহী শহরের শাহমখদুম থানার বড়বনগ্রাম চকপাড়ায়।
এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি (রবিবার) বিকেলে রাজশাহীর বেলপুকুরের পোল্লাপুকুর এলাকায় রাজকীয় পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে অটোরিকশার সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শান্ত ইসলাম নিহত হন। আহত ছয়জনকে হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে এক নারী ও পুরুষ মারা যান। এই ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়ক অবরোধ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সেখানে যান বেলপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহ পুলিশের একটি দল।
এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা অভিযোগ তোলে, পুলিশ ঘাতক বাস চালককে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে। এই অভিযোগে পুলিশের এক এসআইকে কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। অবরুদ্ধ রাখা হয় ওসিকেও। প্রায় চার ঘণ্টা পর অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সাথে সাথেই বাস চালক দ্রুত বাস নিয়ে পালিয়ে যান। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে গুজব ছড়ানো হয় যে, পুলিশ বাস চালককে ছেড়ে দিয়েছে, যা ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন। এই মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ছাত্র-জনতা উত্তেজিত হয়ে নিহত শিক্ষার্থীর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করতে না দেয়াসহ বেলপুকুর থানার ওসি এবং একজন এসআইকে জিম্মি করেন। তাদের শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন এবং এসআইকে কান ধরতে বাধ্য করে তার ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করেন। গ্রেফতার তুহিন এই ‘মবের’ মূলহোতা বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় বেলপুকুর থানায় সড়ক পরিবহন আইনে একটি এবং সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও পুলিশ সদস্যদের হেনস্তা করার অপরাধে পৃথক আরেকটি মামলা করা হয়েছে। গ্রেফতার তুহিনকে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাস চালককেও আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে ঘটনার দিন রাতেই বাস জব্দ করে পুলিশ।
ইউডি/রেজা

