ঢাকা-কক্সবাজার রুটে রেল বাইপাস: সময় সাশ্রয়ের নতুন যুগ

ঢাকা-কক্সবাজার রুটে রেল বাইপাস: সময় সাশ্রয়ের নতুন যুগ

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ০৯:৫৫

ঢাকা-কক্সবাজার রুটে রেল চলাচলের সময় অন্তত দেড় ঘণ্টা কমাতে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী হয়ে ঝাউতলা বাইপাস নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ১০ হাজার কোটি টাকার ডুয়েল লাইন প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই বাইপাস কার্যকর হলে ঢাকা থেকে আসা ট্রেনগুলোকে চট্টগ্রাম স্টেশনে ইঞ্জিন ঘুরিয়ে সময় নষ্ট করার প্রয়োজন হবে না এবং ট্রেনগুলো সরাসরি কক্সবাজার পৌঁছাতে পারবে। এতে যাত্রীদের কমপক্ষে ৪৫ মিনিট থেকে দেড় ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হবে।

গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার এবং উল্টো পথে ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ও ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ নামে দুটি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করছে। সড়কপথের জটিলতা এড়িয়ে নির্বিঘ্ন চলাচলে এগুলো ক্রমশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনে ট্রেনগুলোর ইঞ্জিন ঘুরানোর কারণে অন্তত ৪৫ মিনিট সময় অপচয় হয়।

ঢাকা-কক্সবাজার লোকোমাষ্টার এফ এম আবদুল আওয়াল বলেন, ঝাউতলা ও পাহাড়তলী হয়ে বাইপাস করা হলে ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার পৌঁছানো সম্ভব হবে। নতুন লাইন ব্যবহারের কারণে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হবে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুট ১৬৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং বর্তমানে এখানে ট্রেন যাত্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা সময় লাগে। পাহাড়তলী থেকে চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে আসার পথে ১০ মিনিট, ইঞ্জিন রিভার্সিং ও কার্টেলের জন্য আরও ২০ মিনিট সময় লাগে। প্রতিদিন এই রুটে দুটি সরাসরি ও দুটি লোকাল ট্রেনে অন্তত ৮ হাজার যাত্রী যাতায়াত করে।

রেল সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী সবগুলো যাত্রীবাহী ট্রেনকে প্রথমে আসতে হয় পাহাড়তলীতে। এরপর কদমতলী হয়ে পৌঁছাতে হয় চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে। সবশেষ ইঞ্জিন ঘুরিয়ে ভিন্ন লাইনে পৌঁছাতে হয় ঝাওতলা হয়ে কালুরঘাট ব্রিজ। এতে প্রতিবারেই সময় লাগছে অন্তত ৪৫ মিনিট। তবে বাইপাস নির্মাণ হলে এই ৪৫ মিনিট করে দেড় ঘণ্টা সাশ্রয় হবে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের।

চট্টগ্রাম রেল স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার আবু বকর সিদ্দিক জানান, বাইপাস হলে চট্টগ্রামে এসে ইঞ্জিন ঘুরানোর প্রয়োজন থাকবে না। সরাসরি বাইপাস লাইন ব্যবহার করে ট্রেনগুলো কক্সবাজারে পৌঁছাবে। এতে চট্টগ্রামে গড়েই ট্রেনে ৩০ মিনিট সময় সাশ্রয় হবে।

এ পরিস্থিতিতে রেলপথ মন্ত্রণালয় চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী থেকে ঝাউতলা পর্যন্ত নতুন বাইপাস লাইন স্থাপনের প্রকল্প নিয়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজারগামী যাত্রীদের সুবিধার জন্য পাহাড়তলী, ষোলশহর ও ঝাউতলা স্টেশন ভবন নির্মাণ, সিবিআই সিগন্যাল এবং ইন্টারলকিং পদ্ধতিও চালু করা হবে। বাইপাস কার্যকর হলে চট্টগ্রামের যাত্রীরা এই স্টেশনগুলো থেকেও উঠা-নামা করতে পারবে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. তানভীরুল ইসলাম বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার যাত্রা সম্ভব হবে। চট্টগ্রামে আসার প্রয়োজন হবে না, সময় বাঁচবে এবং কিছু রেলস্টেশন ও সিগন্যালিং সিস্টেমও আপগ্রেড হবে। এছাড়া তিনটি জায়গায় রেল ও রোড ক্রসিংয়ে আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে ঢাকা থেকে আসা কক্সবাজার ও পর্যটক এক্সপ্রেসের জন্য বাড়তি সময় লাগলেও চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি ছেড়ে যাওয়া প্রবাল এক্সপ্রেস এবং শৈবাল এক্সপ্রেস এই জটিলতা থেকে মুক্ত রয়েছে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading