বিদেশি ঋণ নির্ভরতায় বাড়ছে ঝুঁকি, সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জের শঙ্কা

বিদেশি ঋণ নির্ভরতায় বাড়ছে ঝুঁকি, সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জের শঙ্কা

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৯:৫০

বিদেশি ঋণ পরিশোধে চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে বাংলাদেশের ব্যয় বেড়েছে ১০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। বিপরীতে ২৯ শতাংশ কমেছে প্রতিশ্রুত ঋণ ছাড় আর ঋণ-সহায়তার প্রতিশ্রুতি কমেছে ১৩ দশমিক ৪২ শতাংশ। আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরবর্তী সরকারকে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা নেয়ার তাগিদ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।

সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রকল্প বাস্তবায়নে নেয়া বিদেশি ঋণ পরিশোধে চাপ অব্যাহত রয়েছে বাংলাদেশের ঘাড়ে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) প্রকাশিত অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, গত জুলাই থেকে ডিসেম্বরে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ বাবদ ২১৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয় করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ঋণের আসল পরিশোধ হয়েছে ১৪২ কোটি ৫৩ লাখ ডলার আর ৭৬ কোটি ৯৬ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে সুদ পরিশোধে।

মোট হিসাবে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বিদেশি ঋণ পরিশোধ ব্যয় বেড়েছে ১০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। পরিসংখ্যান বলছে, অর্থবছরের প্রথমার্ধে বিদেশি ঋণ পরিশোধে ব্যয় বাড়লেও কমেছে প্রতিশ্রুত বিদেশি ঋণ ছাড়ের পরিমাণ। এ সময়ে ২৪৯ কোটি ৯৭ লাখ ডলারের ঋণ ও অনুদানের অর্থ ছাড় করেছে উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী সংস্থা। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৯ শতাংশ কম।

গত ছয় মাসে শুধু ঋণ ছাড়ই কমেনি; কমেছে বাংলাদেশকে ঋণ ও সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতিও। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যেখানে বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতি মিলেছিলো ২২৯ কোটি ৮৬ লাখ ডলার, সেখানে চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরে তা নেমেছে ১৯৯ কোটি ডলারে।

অর্থনীতি বিশ্লেষক মো. মাজেদুল হক বলেন, মেগা ও উন্নয়ন প্রকল্পসহ সব ধরনের প্রকল্পই এখন বৈদেশিক ঋণ নির্ভর হয়ে পড়েছে। কারণ রাজস্ব আয় তেমন নেই, সরকার ঋণ করে পরিচালন ব্যয় চালাচ্ছে। তাই যে হারে ঋণ-জিডিপি অনুপাত বাড়ছে, সেই হারে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ছে না। বাড়ছে না রফতানি আয়ও। সামনে ঋণের অর্থ পরিশোধ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এতে ঋণের ফাঁদে আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ইআরডির তথ্য, গত ৬ মাসে খাদ্য সহায়তা বাবদ ২ কোটি ৫ লাখ ডলার অর্থছাড় মিললেও আসেনি কোনো ঋণ ও সহায়তার প্রতিশ্রুতি।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading