সবাইকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতন হতে হবে: পরিবেশ উপদেষ্টা

সবাইকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতন হতে হবে: পরিবেশ উপদেষ্টা

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৪:৩০

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন; তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ান হাসান বলেছেন, বাংলাদেশের সব ধরনের প্রাণির রেড লিস্ট হালনাগাদের উদ্দেশ্য হলো ধাপে ধাপে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা। সেই কাজটি করা না গেলে তালিকা প্রণয়ন করা অর্থহীন। তিনি বলেন, সবাইকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতন হতে হবে।

ঢাকায় রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে আয়োজিত ইনসেপশন ওয়ার্কশপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

বন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘বাংলাদেশের প্রাণিকূলের রেড লিস্ট হালনাগাদকরণ প্রকল্প’-এর আওতায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইইউসিএন বাংলাদেশের ‘আপডেটিং দ্য এক্সিস্টিং রেড লিস্ট অব ফাউনা অ্যান্ড আদার অ্যাক্টিভিটিজ’ বাস্তবায়নে বন বিভাগ আইইউসিএন বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

উপদেষ্টা বলেন, দেশে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সরকার উইং প্রতিষ্ঠা করছে। কিন্তু সেটাই যথেষ্ট নয়। সাধারণ মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে মূল্যবোধ থাকতে হবে; তাদের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, বন্যপ্রাণীর প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত ও কৌশলগত সংরক্ষণ উদ্যোগ।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের।

পরিবেশ সচিব বলেন, এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এবং দেশীয় বিশেষজ্ঞদের সক্রিয় অংশগ্রহণে দেশের প্রাণিকূলের রেড লিস্ট হালনাগাদ করা হচ্ছে, যেখানে আইইউসিএন কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগটি দেশীয় জ্ঞান ও সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করছে, যা জাতীয় পর্যায়ে সংরক্ষণ কার্যক্রমকে আরো কার্যকর ও টেকসই করে তুলবে।

প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রকল্পের পরিচালক মো. ছানাউল্লাহ পাটোয়ারী, প্রকল্পের টিম লিডার ড. মোহাম্মদ আলী রেজা খান, প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী, আইইউসিএন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ বিপাশা এস হোসেন।

দিনব্যাপী কর্মশালায় নীতিনির্ধারক, বিজ্ঞানী, গবেষক, একাডেমিশিয়ানরা অংশগ্রহণ করেন। নয়টি ট্যাক্সোনমিক গ্রুপে বিস্তারিত কারিগরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রেড লিস্ট মূল্যায়নের পরিধি, পদ্ধতি, সমন্বয় কাঠামো এবং সময়সূচি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

২০১৫ সালে পরিচালিত জাতীয় মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে এই উদ্যোগের আওতায় প্রায় দুই হাজার ২০০টি প্রাণী প্রজাতির সংরক্ষণ, অবস্থা মূল্যায়ন ও পুনর্মূল্যায়ন করা হবে বলে জানা যায়।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading