আমরা দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার দেখতে চাই না: ডা. শফিকুর রহমান
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৭:২৫
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা আধিপত্যবাদ মানবো না, ফ্যাসিবাদ দেখতে চাই না। আমরা কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার দেখতে চাই না। আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ দেখতে চাই।
তিনি বলেন, আপনারা যদি আমাদের ভোট দেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে মন্ত্রি পরিষদের সিনিয়র সদস্য হিসেবে দেখতে পাবেন। এই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।
এই সুযোগ চৌদ্দগ্রামবাসী কাজে লাগাবেন কিনা সেটা চিন্তা করবেন।শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বেলা পৌনে ১২টার দিকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে নির্বাচনি জনসভা তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিগত সময়ে শত অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেও আমরা দেশ ছাড়িনি। আমরা ছিলাম, আমরা আছি, আমরা থাকবো ইনশাআল্লাহ। আমরা মজলুম ছিলাম, মজলুমে দুঃখ আমরা বুঝি।
এ জন্য আমরা কখনো জালিম হবো না।’দেশব্যাপী নারী নির্যাতনের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আর যদি কোনো মা-বোনদের গায়ে হাত দেওয়া হয়, তাহলে আমরা তাদের ছেড়ে কথা বলবো না। এমন ঘটনা যেখানেই ঘটে, সেখানেই তোমরা সাহসী যুবকরা ঝাঁপিয়ে পড়ো, যেভাবে জুলাইয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছো।’
মা-বোনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মা-বোনেরা কোনো জুজুর ভয় পাবেন না। কোনো ভয়-ভীতিতে আপনারা ক্ষান্ত হবেন না। আপনারা ন্যায়ের পক্ষে ভোট দিন। চাঁদাবাজদের রুখে দিন। জামায়াত ক্ষমতায় এলেই মা-বোনেরা নিরাপদে থাকবেন।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘আপনারা সেই মা যারা আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ আর ওসমান হাদিদের জন্ম দিয়েছেন। যারা আপনাদের ভয় দেখায় আপনারা তাদের রুখে দিন। বলুন ভোট আমি দিতে যাবো, ন্যায়-ইনসাফের পক্ষে দেবো, পারলে ঠেকাও।’
যুবকদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘কোনো যুবকের হাতে বেকার ভাতা তুলে দেবো না। যুবকদের দেশ গড়ার কারিগরে পরিণত করবো। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে আমরা যুবকদের সম্মানের জায়গায় বসাতে চাই।’
চৌদ্দগ্রাম এইচ জে পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চৌদ্দগ্রাম আসনের ১১দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ও জামায়াতে কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন এনসিপির সভাপতি নাহিদ ইসলাম, খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা এটিএম মাছুম, মাওলানা আবদুল হালিম, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি. মো. জাহিদুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিগবাতুল্লাহ, ডাকসুর ভিপি সাদেক কাইয়ুম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসের সদস্য আবদুস সাত্তার, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান, কুমিল্লা-১০ আসনের ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. ইয়াছিন আরাফাত, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণের সেক্রেটারি আতিকুর রহমান, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির উপজেলা সেক্রেটারি অনিল চন্দনাথ, উপজেলা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোতাসির বীন সাকির, জাতীয় নাগরিক শক্তির যুগ্ম আবু সুফিয়ান, শহীদ সাহাবুদ্দিনের বাবা মাওলানা জয়নাল আবেদীন, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা শাহজালাল, চৌদ্দগ্রাম নজমিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ একেএম সামছুদ্দিন, উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির ভিপি শাহাবুদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা নুরুজ্জামান খোকন, শ্রীপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এমদাদুল হক শাহী, জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মজিবুর রহমান, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা জামায়াতের আমির মাওলানা মোহাম্মদ ইব্রাহিম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মো. নুরুল ইসলাম মোল্লা।
ইউডি/এআর

