নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও রাষ্ট্র সংস্কার

নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও রাষ্ট্র সংস্কার

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৩:১৩

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেবল সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নয়, বরং আগামী কয়েক দশকের রাষ্ট্র কাঠামো ও শাসনব্যবস্থা নির্ধারণের ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে দেখছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, এই নির্বাচন ও এর সঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটের মাধ্যমেই ঠিক হবে আগামী ২০–৩০ বছর বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে এবং সংবিধানে কী ধরনের মৌলিক সংস্কার আসবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে গণভোটে জনগণের রায় নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দিকনির্দেশনা এবং সংবিধানের কাঠামোগত সংস্কার নির্ধারিত হবে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম বারের মতো সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই গণভোটের মাধ্যমে সংবিধানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

তিনি জানান, এসব সংস্কার বাস্তবায়িত হলে দেশে সংসদের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা, ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিতকরণ এবং একটি স্বাধীন ও কার্যকর নির্বাচন কমিশন গঠনের পথ সুগম হবে।

নাহিদ বলেন, “এটা কোনো একটি দলের এজেন্ডা নয়। রাষ্ট্র কীভাবে চলবে, ক্ষমতার জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত হবে—সেই সিদ্ধান্ত জনগণই নেবে।”

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারসহ বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য বড় রাজনৈতিক দলগুলো এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

দুর্নীতি প্রসঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমি সরকারকে ভেতর থেকে দেখেছি। কেন বাংলাদেশে দুর্নীতি হয়, কোথায় গলদ—সেগুলো আমার জানা।” তিনি দাবি করেন, ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির মূলোৎপাটন এবং দখলদারিত্ব ও বৈষম্য দূর করাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার হবে।

নাহিদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা জনগণের মধ্যে তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি। দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব পেলে সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।

নিজেকে তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিনি জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন।

রাষ্ট্র সংস্কারের পাশাপাশি ঢাকা-১১ আসনের অবকাঠামো, নাগরিক সেবা ও জীবনমান উন্নয়নেও তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেবেন বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

এসময় তিনি ১১ দলীয় ঐক্যের জন্য দেশবাসীর দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন। তিনি বলেন, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও গণভোটে স্পষ্ট রায়ের মাধ্যমেই একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading