গৎবাঁধা নয়, প্রশিক্ষণ হতে হবে সমস্যা সমাধানের: প্রধান উপদেষ্টা
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার , ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ২০:২০
জনপ্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি ও সেবার মানোন্নয়নে গৎবাঁধা প্রশিক্ষণ পদ্ধতির পরিবর্তে ‘প্রবলেম সলভিং’ বা সমস্যা সমাধানমূলক প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “প্রশিক্ষণ পদ্ধতি আপ-টু-ডেট হতে হবে। এমন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে যাতে ফাইল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঝুলে না থাকে এবং নাগরিককে সরকারের কাছে আসতে না হয়, বরং সরকারের সেবা নাগরিকের কাছে পৌঁছে যায়।”
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ‘প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন’ সংক্রান্ত প্রতিবেদন গ্রহণকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “সরকারের সার্ভিসে, সরকারি কোনও প্রতিষ্ঠানে কোনও দুর্নীতি থাকবে না। প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাজের গতি বাড়াতে হবে। এমনভাবে ব্যবস্থা, ব্যবস্থাপনা, দক্ষতা গড়ে তুলতে হবে যাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই যেকোনও সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন হয়ে যায়; এ রুম থেকে ও রুমে ফাইল যেন ঝুলে না থাকে।” তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটাই নাগরিক কোনও ব্যক্তির কাছে যাবে না, সরকারের কাছে যাবে না। সরকারের সার্ভিস পৌঁছে যাবে নাগরিকের কাছে।”
প্রধান উপদেষ্টা দক্ষ কর্মকর্তা গড়ে তুলতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি যারা ভালো ফল করবেন, তাদের জন্য বিশেষ ‘ইনসেনটিভ’ বা পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশনা দেন। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর পুরোনো আমলের পদ্ধতির সমালোচনা করে ড. ইউনূস বলেন, “শুধু ভবন থাকলেই হবে না, দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে হবে।
প্রশিক্ষণ হবে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জনের জন্য। এমনকি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে র্যাঙ্কিং (প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়) করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বেসরকারি কর্মীরাও এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন যাতে তারা গর্ববোধ করতে পারেন।”
বৈঠকে জানানো হয়, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর কারিগরি সহায়তায় জিআইইউ এই মূল্যায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। এটি বাংলাদেশে এ ধরনের প্রথম উদ্যোগ। প্রাথমিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত পাঁচটি প্রতিষ্ঠান— বিপিএটিসি, বিসিএস প্রশাসন একাডেমি, বিয়াম ফাউন্ডেশন, নাডা এবং এনএপিডি-কে এই মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে। ‘লার্নিং বাই ডুইং’ পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি পর্যায়ে যথাযথ অংশীজনের মতামত গ্রহণ করা হয়েছে। এ কার্যক্রম সম্পাদনের লক্ষ্যে একাডেমিয়া, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়া নীতি সিদ্ধান্ত প্রদানের জন্য সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়।
ইউডি/এআর

