১৯ দফা ইশতেহার ঘোষণা শামা ওবায়েদের, প্রতিটি গ্রাম হবে ‘মডেল ভিলেজ’
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১০:০০
ফরিদপুর–২ (নগরকান্দা–সালথা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। ইশতেহারে নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার জন্য পৃথক মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন এবং এলাকার উন্নয়নকেন্দ্রিক ১৯ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। একই সঙ্গে প্রতিটি গ্রামকে ধাপে ধাপে ‘মডেল ভিলেজ’ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের নিজ বাড়িতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
শামা ওবায়েদ নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের লস্করদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা প্রয়াত ওবায়দুর রহমান বিএনপির মহাসচিব ছিলেন। তিনি ১৯৭৩ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত পাঁচবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। শামা ওবায়েদ ২০০৮ ও ২০১৮ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।
ঘোষিত ইশতেহারে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, পরিকল্পিত গ্রাম ও নগর উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন তিনি।
ইশতেহার ঘোষণাকালে শামা ওবায়েদ বলেন, এবারের নির্বাচন দেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ভোটাধিকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, গত কয়েক বছরের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম ও সহিংসতার অভিজ্ঞতা থেকে জনগণ এখন একটি অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা করছে।
তিনি আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার গ্রাম ও স্থানীয় অবকাঠামোকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করতে হবে।
ইশতেহারে নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার জন্য পৃথক দুটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কথা উল্লেখ করা হয়। এর আওতায় পরিকল্পিত বসতি, নিরাপদ সড়ক, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সবুজায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে গ্রামীণ অর্থনীতিভিত্তিক শিল্প ও উদ্যোক্তা তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়। শামা ওবায়েদ বলেন, পাট প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন, পাটভিত্তিক কুটির শিল্প সম্প্রসারণ এবং নারী ও যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বেকার নারী ও তরুণদের বড় একটি অংশ কর্মসংস্থানের আওতায় আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাজার ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের অংশ হিসেবে দুই উপজেলায় বিদ্যমান প্রায় ৪০টি বাজার আধুনিকায়ন ও পুনর্বিন্যাসের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। পাশাপাশি গ্রামীণ উদ্যোক্তা তৈরিতে আইসিটি ও কারিগরি প্রশিক্ষণ, ফ্রিল্যান্সিং কার্যক্রম সম্প্রসারণ, আইসিটি হাব স্থাপন এবং সহজ শর্তে ঋণের মাধ্যমে ২০ হাজার কম্পিউটার বিতরণের ঘোষণাও দেওয়া হয়।
কৃষি অধ্যুষিত নগরকান্দা–সালথা এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সহায়তা, কৃষক প্রশিক্ষণ, কৃষিঋণ ও বীমা সুবিধা সম্প্রসারণ এবং ফসল সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়নের কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি বিএনপির ঘোষিত কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন শামা ওবায়েদ।
অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে সালথা উপজেলার প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার এবং নগরকান্দা উপজেলার প্রায় ৫৩৮ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া কাঁচা সড়ক পাকাকরণ, নতুন সংযোগ সড়ক নির্মাণ, নদী পুনঃখনন, খাল ও জলাশয় পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা আধুনিকায়ন, নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, আইসিটি-ভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং প্রতিটি ইউনিয়নে স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে এই নারী প্রার্থীর ইশতেহারে। পাশাপাশি যুব উন্নয়ন, ক্রীড়া সুবিধা সম্প্রসারণ, নারী নিরাপত্তা সেল গঠন, লাইব্রেরি স্থাপন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আধুনিকায়ন, শতভাগ বিদ্যুৎ ও সোলার সংযোগ এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা হয়।
ইউডি/কেএস

