এবছর রমজান মাস ২৯ নাকি ৩০ দিনে হবে?

এবছর রমজান মাস ২৯ নাকি ৩০ দিনে হবে?

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১০:০০

জ্যোতির্বিজ্ঞানের গণনা অনুযায়ী চলতি বছর রমজান মাসের শুরু ইসলামী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন তারিখে হতে পারে। কিছু দেশে পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে ১৮ ফেব্রুয়ারি, আর কিছু দেশে ১৯ ফেব্রুয়ারি। চাঁদ দেখা ও জ্যোতিবিজ্ঞানের হিসাবের মধ্যে পার্থক্যের কারণে এ বছর ভিন্ন ভিন্ন তারিখে রমজান মাস শুরু হতে পারে বলে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যোতির্বিদ্যা সংস্থা এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল স্যোসাইটির চেয়ারম্যান এবং আরব ইউনিয়ন ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড স্পেস সায়েন্সেসের সদস্য ইব্রাহিম আল জারওয়ান বলেছেন, পবিত্র রমজান মাসের শুরুতে এই ভিন্নতা দেখা যাবে। তবে রমজানের শেষ এবং শাওয়াল শুরু হওয়া প্রায় সকল মুসলিম দেশে একই সময়ে (২০ মার্চ) হবে।

তিনি বলেন, জ্যোতিবিজ্ঞানের গণনা অনুযায়ী, এ বছর রমজান মাস ২৯ দিন স্থায়ী হবে এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে। পুরো মাসজুড়ে রোজায় উপবাসের সময় সর্বোচ্চ প্রায় ১৩ ঘণ্টা ২৫ মিনিট হতে পারে। ইফতার সবার আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের খোরফাক্কানে এবং সবচেয়ে পরে হবে আল সিলার পশ্চিমাঞ্চলে।

আল জারওয়ান বলেন, আমিরাতে ১৪৪৭ হিজরির রমজান মাসের চাঁদ ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৪ টা ১ মিনিটে দেখা যেতে পারে। তবে একই দিনে সূর্যাস্তের এক মিনিট পরই এটি অস্ত যাবে। চাঁদের বয়স তখন প্রায় দুই ঘণ্টা ১২ মিনিট হবে। যে কারণে আমিরাতের আকাশে রমজানের চাঁদ সরাসরি দেখা প্রায় অসম্ভব।

তবে পরের দিন ১৮ ফেব্রুয়ারি সূর্যাস্তের পরে রমজান মাসের চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চাঁদ দেখা গেলে আমিরাতে ১৯ ফেব্রুয়ারিকে রমজানের প্রথম দিন হিসেবে ধরা হবে। সেই অনুযায়ী, পবিত্র রমজান মাসের শেষ ১৯ মার্চ এবং ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে ২০ মার্চ।

আল জারওয়ান বলেন, আবুধাবিতে রমজান মাসের শুরুতে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দিনের সময় হবে প্রায় ১১ ঘণ্টা ৩২ মিনিট। ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজার সময় হবে প্রায় ১২ ঘণ্টা ৪৬ মিনিট। মাসের শেষের দিকে দিনের সময় প্রায় ১২ ঘণ্টা ১২ মিনিটে বৃদ্ধি পাবে এবং রোজার সময় প্রায় ১৩ ঘণ্টা ২৫ মিনিটে পৌঁছাবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভৌগোলিক বৈচিত্র্যও নামাজ এবং রোজার সময়ে প্রভাব ফেলবে। খোরফাক্কান ও পূর্ব উপকূলীয় এলাকাগুলো আবুধাবি থেকে প্রায় আট মিনিট এগিয়ে থাকবে। আর পশ্চিমাঞ্চল, যেমন আল সিলা ও আল ঘুয়েফাতের মতো অঞ্চলগুলো রাজধানী থেকে প্রায় ১২ মিনিট পিছিয়ে থাকবে। এর ফলে দেশটিতে সাহরি ও ইফতারের সময়ের পার্থক্য সর্বোচ্চ ২০ মিনিট পর্যন্ত হতে পারে।

আল জারওয়ান বলেন, সাধারণ ঋতুবৈশিষ্ট্য অনুযায়ী, রমজানের শুরুতে দিনের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ প্রায় ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে থাকবে। তবে মাসের শেষের দিকে তাপমাত্রা বেড়ে সর্বোচ্চ ৩২ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন প্রায় ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে থাকবে।

সূত্র: গালফ নিউজ।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading