গুমের মামলায় সাবেক সেনাপ্রধানের সাক্ষ্য শেষ, জেরা ১৮ ফেব্রুয়ারি
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৫:১০
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষী সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়ার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। জেরার জন্য আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ সাক্ষ্য সম্পন্ন হয়। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।
এদিন অবশিষ্ট সাক্ষ্য সম্পন্ন করেন ইকবাল করিম। জবানবন্দিতে জিয়াউল আহসানের বেপরোয়া তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা র্যাবে গিয়ে পেশাদার খুনি হয়ে ফিরে আসতেন বলে ট্রাইব্যুনালকে জানানো হয়। এছাড়া সেনাবাহিনী ও র্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্তর বর্ণনা করেন।
ট্রাইব্যুনালে আজ প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, শাইখ মাহদীসহ অন্যরা। জিয়াউলের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী ও নাজনীন নাহার।
এর আগে, গতকাল (রবিবার) প্রথম দিনের মতো সাক্ষ্য দেন সাবেক এই সেনা প্রধান। এ মামলায় একমাত্র আসামি জিয়াউল আহসান। তাকে আজ সকালে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করেছে পুলিশ।
গত ১৪ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। এ মামলায় সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ আনা হয়।
প্রথমটি হলো- ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইলে সড়কের পাশে জিয়াউলের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ আরও তিন জনকে হত্যা।
দ্বিতীয় অভিযোগে অপরাধের সময় কাল হলো ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত। এ সময়টায় বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খালঘেঁষা বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যা। তৃতীয় অভিযোগেও ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ইউডি/রেজা

