ফলাফল যা-ই হোক মেনে নেবেন, প্রার্থীদের প্রধান উপদেষ্টা
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার , ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ২১:৪০
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হোক না কেন, তা দেশের সব দলের প্রার্থীদের হাসিমুখে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাতটায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এই আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।তিনি বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করছি না, একইসঙ্গে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে।
আমরা কি একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়তে পারব, নাকি আবারও পুরনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক ও অনিয়ন্ত্রিত বৃত্তে ফিরে যাবো—এই প্রশ্নের উত্তর দেবে গণভোট।ড. ইউনূস জানান, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
রেকর্ডসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসম্পন্ন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদেরও ব্যাপকভাবে দায়িত্বে রাখা হয়েছে, যাতে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা দ্রুত ও কঠোরভাবে প্রতিহত করা যায়।
অনেক কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়েছে।জুলাই সনদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘ নয় মাস ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করা হয়েছে।
এই সনদের মাধ্যমে আমরা সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছি।তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, শাসনব্যবস্থায় জবাবদিহিতা, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং সমাজে সমঅধিকার নিশ্চিতকরণ-এসবের সফল বাস্তবায়ন এককভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে সম্ভব নয় বলে জানান প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, এর জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মতামত।প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এখন নতুন করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যে, অন্তর্বর্তী সরকার নাকি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে না।
এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও পরিকল্পিত অপপ্রচার, যার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো আমাদের গণতান্ত্রিক উত্তরণে বিঘ্ন সৃষ্টি করা।তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, আপনারা নিশ্চিত থাকুন, নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিদের কাছে দ্রুততম সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তী সরকার তার দায়িত্ব সমাপ্ত করবে।
ইউডি/এআর

