যশোরে নির্বাচন ও ভালোবাসা দিবস ঘিরে ১২ কোটি টাকার ফুল বিক্রি

যশোরে নির্বাচন ও ভালোবাসা দিবস ঘিরে ১২ কোটি টাকার ফুল বিক্রি

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৩:৩৫

ভালোবাসা দিবসে শেষ মুহূর্তেও ফুলের ভালো দাম পেয়েছেন চাষিরা। জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় এবং কোনো সহিংসতা না থাকায় শঙ্কা কেটে গেছে তাদের। সব মিলিয়ে নির্বাচন, পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে গত এক সপ্তাহে যশোরে প্রায় ১২ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ায় হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পহেলা ফাল্গুন এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস; এই দুই দিবসকে কেন্দ্র করে গোলাপ, জারবেরা, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধাসহ বিভিন্ন ফুলের বাজার তুঙ্গে থাকে। এবার এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচনে প্রার্থীদের বরণ, পথসভা এবং বিজয় মিছিলে ফুলের ব্যাপক চাহিদা ছিল। চাহিদার পারদ তুঙ্গে থাকায় ফুলের দাম ছিল ঊর্ধ্বমুখী এবং বিক্রিও হয়েছে সন্তোষজনক। ফলে ফুরফুরে মেজাজে পুরো মৌসুমের বেচাকেনা শেষ করেছেন ফুলের রাজ্য গদখালীর চাষিরা।

এক চাষি বলেন, ‘আজ (শনিবার) ভালো মানের গোলাপ ১৪-১৫ টাকা এবং একটু ছোট সাইজের গোলাপ ১০-১২ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া রজনীগন্ধা ৭ থেকে ১০ টাকা, রঙভেদে গ্লাডিওলাস ৮ থেকে ১৬ টাকা, জারবেরা ৮ থেকে ১০ টাকা এবং চন্দ্রমল্লিকা ২ থেকে ৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। সারা বছরই আমরা ফুলের ভালো দাম পেয়েছি।’

আরেক চাষি বলেন, ‘আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি, তাই পাইকারি বাজারে ফুলের চাহিদা কিছুটা কম। তারপরও আলহামদুলিল্লাহ বেচাকেনা মোটামুটি ভালো।’

ফুলচাষিরা বলেন, ‘এ বছর বেচাকেনা অনেক ভালো। অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত আমরা মোটামুটি ভালো দাম পেয়েছি। গত ১১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের কারণে যান চলাচল বন্ধ থাকায় কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। তবে আজ ভালোবাসা দিবসেও বাজার ভালো যাচ্ছে। আজও প্রতি পিস গোলাপ ১০ থেকে ১৪ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি করেছি। আশেপাশের জেলাগুলোতে আমরা ফুল পাঠাচ্ছি। সবচেয়ে বেশি চাহিদা গোলাপ ফুলের। সব মিলিয়ে এ বছর আমরা লাভে আছি।’

অপর এক চাষি বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, ফলে বাজারও ভালো আছে। এবার শীত ও গরমের মিশ্র আবহাওয়ায় সব ফুলেরই উৎপাদন বেশি হয়েছে। এ অবস্থাতেও বাজার এত ভালো থাকবে, তা কল্পনাও করা যায়নি। আমরা সাধারণ চাষিরা ভাবছিলাম নির্বাচনের কারণে হয়তো বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, কিন্তু উল্টো আরও ভালো হয়েছে।’

গদখালী ফুলচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি মঞ্জুরুল আলম বলেন, ‘আমাদের গদখালীর চাষিরা পুরো একটি বছর টার্গেট করেই ফুল চাষ করে থাকেন। এবার যেহেতু বর্ষাটা ছিল অনেকটা নাবি (দেরিতে), তাই আমরা বেশ হতাশাগস্ত ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, সেই নাবি বর্ষা উপেক্ষা করেও ফুলের ফলন অনেক বেশি এবং মানসম্মত হয়েছে। এ ছাড়া পুরো বছরটাই ফুলের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। সব মিলিয়ে কৃষকের হাতে টাকা এসেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে প্রায় ১২ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে। আর যদি পুরো মৌসুমের কথা বলি, তাহলে আমাদের যে ১১৫-১২০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা ছিল, সেটা পূরণ হয়েছে। গত ৩০ থেকে ৩৫ বছরে এত সুন্দর বাজার আমি আর কখনোই দেখিনি। কিছুদিন পর ২১শে ফেব্রুয়ারি। তখন রমজান মাস থাকলেও ফুলের ভালো দাম পাব বলে আশা করছি। গদখালীর সব ফুলচাষি ও ব্যবসায়ী এ বছর খুবই সন্তুষ্ট।’

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, যশোর অঞ্চলে প্রায় ৭ হাজার চাষি ৬৪১ হেক্টর জমিতে গোলাপ, জারবেরা, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, চন্দ্রমল্লিকা, লিলিয়ামসহ ১৩ ধরনের ফুলের চাষ করেন; যা দেশের মোট চাহিদার ৭০ শতাংশই পূরণ করে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading