ইরানে শাসক পরিবর্তনই সেরা সমাধান, বললেন ট্রাম্প

ইরানে শাসক পরিবর্তনই সেরা সমাধান, বললেন ট্রাম্প

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৮:০৫

ইরানে সম্ভাব্য শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শিগগিরই ‌‘‘অসাধারণ ক্ষমতা’’ দেখা যাবে। এদিকে, ইরানে ওপর চাপ তৈরি করার লক্ষ্যে ওই অঞ্চলে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছে পেন্টাগন।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিতর্ক নিয়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টার মাঝেই ট্রাম্পের কঠোর সামরিক পদক্ষেপের এই হুঁশিয়ারি এসেছে।

এই বিষয়ে অবগত একটি সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, মঙ্গলবার জেনেভায় ইরানের সঙ্গে এক বৈঠকে বসবেন মার্কিন কূটনীতিক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। ওই বৈঠকে ওমানের প্রতিনিধি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। একই দিনে ইউক্রেনে যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে রাশিয়া ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন মার্কিন প্রতিনিধিরা।

ইরানে শাসন পরিবর্তন চান কি না, সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, মনে হচ্ছে, এটাই সবচেয়ে ভালো বিষয়; যা ঘটতে পারে। তবে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটলে দেশটি কারা নিয়ন্ত্রণ করবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘‘লোকজন আছে।’’

নর্থ ক্যারোলিনায় সামরিক এক অনুষ্ঠানের পর ট্রাম্প বলেন, ৪৭ বছর ধরে তারা শুধু কথা বলছে। এসময় আমরা অনেক জীবন হারিয়েছি; পা, হাত, মুখও হারিয়েছে মানুষ। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এগোচ্ছি।

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সহায়তা বন্ধ এবং ইরানি জনগণের প্রতি সরকারের দমন-পীড়নের মতো বিভিন্ন ইস্যুকে পারমাণবিক আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে চায় ওয়াশিংটন। ইরান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে পারমাণবিক কর্মসূচিতে লাগাম টানার বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে। তবে তেহরান ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে আলোচনায় যুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ট্রাম্প বলেছেন, যদি কোনও চুক্তি না হয়, তাহলে তিনি ইরানের ওপর হামলা চালাতে পারেন। তেহরানও পাল্টা হামলার হুমকি দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার ওপর একযোগে হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা ও ইসরায়েল।

মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট বলেছেন, পারমাণবিক স্থাপনাতে এখন যা বাকি আছে তা কেবল ‘‘ধুলোবালু’’। তিনি বলেন, যদি হামলা চালানো হয়, তাহলে এটি মিশনের সবচেয়ে ছোট অংশ হবে। কিন্তু ইরানের হাতে যা বাকি আছে, তার সবটুকুই ধ্বংস করা হবে।

আমেরিকার কর্মকর্তারা বলেছেন, সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি জটিল। তবে বিমানবাহী রণতরী জেরাল্ড আর. ফোর্ড মধ্যপ্রাচ্যে আব্রাহাম লিনকন ক্যারিয়ারের সঙ্গে যুক্ত হবে। এর সঙ্গে থাকবে বিভিন্ন ধরনের গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, যুদ্ধবিমান ও নজরদারি বিমান। জেরাল্ড আর. ফোর্ড সম্প্রতি ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।

আমেরিকার একেবারে নতুন ও বিশ্বের সর্ববৃহৎ এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার হলো জেরাল্ড আর. ফোর্ড। ক্যারিবীয় অঞ্চলে এটি মোতায়েন করা ছিল। এছাড়া চলতি বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানেও অংশ নেয় এই রণতরী। বর্তমানে এই রণতরী মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছে।

শুক্রবার সকালের দিকে ট্রাম্প বলেছেন, যদি চুক্তি না হয়, তখন আমাদের এটি প্রয়োজন…। দরকার হলে আমরা প্রস্তুত রাখব। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেছেন, এই ক্যারিয়ারটি মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে অন্তত এক সপ্তাহ লাগবে।

সূত্র: রয়টার্স।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading