নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে ৫৯ শতাংশ ব্যবসায়ী
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৫:৩৫
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী প্রার্থীদের বেশির ভাগই ব্যবসায়ী। ৮৩ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত। ৭৩ শতাংশের বয়স ৫০ বছরের বেশি।
নির্বাচনে গত বৃহস্পতিবার ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট গ্রহণ হয়। শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট গ্রহণ বাতিল হয়েছে। ২৯৯টি আসনের মধ্যে দুটি আসনে জয়ী বিএনপির প্রার্থীর ফল প্রকাশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে (ঋণ খেলাপের কারণে)। ফলে বিশ্লেষণ করা গেছে ২৯৭ জন প্রার্থীর তথ্য।
নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তথ্য নেয়া হয়েছে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে দেয়া তাদের হলফনামা থেকে। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে প্রার্থীদের হলফনামা দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। এবারের হলফনামায় প্রার্থীদের বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, মামলার তথ্য, আয়, সম্পদসহ ১০ ধরনের তথ্য দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ব্যবসায়ী ১৭৪ জন
সংসদ নির্বাচনে জয়ী প্রার্থীর মধ্যে ১৭৪ জন নিজেদের পেশা হিসেবে ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ্য, কেউ কেউ একাধিক পেশার কথা উল্লেখ করেছেন। সে ক্ষেত্রে হিসাবের সুবিধার জন্য প্রথমে যে পেশার নাম তিনি লিখেছেন, সেটাকেই তার মূল পেশা হিসেবে ধরা হয়েছে।নির্বাচনে বিএনপি একাই ২০৯টি আসন পেয়েছে।
দলটির বিজয়ী প্রার্থীদের মধ্যে ১৪৫ জনই নিজেদের পেশা ব্যবসা উল্লেখ করেছেন, যা দলের মোট জয়ী প্রার্থীর ৬৯ শতাংশ। জামায়াতের ৬৮ জনের মধ্যে ২০ জন নিজেদের পেশা ব্যবসা উল্লেখ করেছেন, যা দলের মোট জয়ী প্রার্থীর ২৯ শতাংশ।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছয়জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন ব্যবসায়ী। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জয়ী হওয়া সাত প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজন ব্যবসায়ী। তারা সবাই বিএনপির নেতা ছিলেন।
অন্যদের মধ্যে দুজন ব্যবসায়ী।দেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী প্রার্থীর ১৮ শতাংশ ছিলেন ব্যবসায়ী। এর পর থেকে হারটি বাড়তে থাকে। ১৯৯১ সালে হারটি দাঁড়ায় ৩৮ শতাংশে।
তখনও সংসদে রাজনীতিবিদ ও আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের একটা ভারসাম্য ছিল। কিন্তু দিন যত গেছে, ততই ব্যবসায়ীর সংখ্যা বেড়েছে।সর্বশেষ ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী সংসদ সদস্যদের মধ্যে ৬৭ শতাংশ ছিলেন ব্যবসায়ী। ওই নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন দল।
নির্বাচন হয় মূলত আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবং দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রাধান্য পান ব্যবসায়ীরা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের।
দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করা সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সংসদে ব্যবসায়ীদের প্রভাব বাড়লে ব্যবসা ও রাজনীতি একাকার হয়; রাজনীতি ব্যবসায়িক মুনাফার পুঁজিতে পরিণত হয়।
স্বার্থান্বেষী ব্যবসায়ী মহলের প্রভাবে আইনি ও নীতিকাঠামো দখল হয়; সরকারি ক্রয় খাত রাজনৈতিক যোগসাজশে ক্ষমতাধরদের করায়ত্ত হয়।
ইউডি/এআর

