চড়া মাছ-মাংসের বাজার
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১০:০০
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে মাছ ও মাংসের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। রমজানের আগে তুলনামূলক কম দামে মাছ–মাংস বিক্রি হলেও মাসের শুরুতেই তা চড়া মূল্যে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। সপ্তাহের ব্যবধানে বেশিরভাগ মাছের দাম কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে বাজারে ৩৫০ টাকার নিচে তেমন কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। একই সঙ্গে গরু ও খাসির মাংসও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচাবাজার, কৃষি মার্কেট, জিগাতলা কাঁচাবাজার ও সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারসহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, রুই, কাতলা, মৃগেলসহ চাষের মাছ কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক দিন আগেও অনেক কম ছিল। ইলিশ আকারভেদে ১,২০০ থেকে ১,৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাবদা, টেংরা, বোয়ালসহ দেশি মাছের দাম কেজিপ্রতি ১,২০০ থেকে ১,৫০০ টাকা। এছাড়া গরিবের মাছ হিসেবে পরিচিত পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে।
মাছের পাশাপাশি মাংসের দামও চড়া। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১,১০০ থেকে ১,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আজকের দিনে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৪০ টাকা কেজিতে। এক সপ্তাহ আগেও এ মুরগি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায় পাওয়া গেছে। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০-২১০ টাকা পর্যন্ত দরে, যা গত সপ্তাহেও ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া লাল লেয়ার ৩৩০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, রমজানে ইফতার ও বিভিন্ন পারিবারিক আয়োজনে চাহিদা বাড়ায় দাম বেড়েছে।
মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুস সবুর মিয়া বলেন, ‘তারা কারওয়ান বাজার থেকে রাতের বেলা মাল এনে সকালে খুচরা বাজারে বিক্রি করেন। সেখানে আগের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। হিসাব করে মাল কিনতে গেলেও পাইকারি দামের কারণে সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। বাধ্য হয়েই বেশি দামে কিনে খুচরা পর্যায়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এ কারণে ক্রেতারা তাদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন, যদিও পাইকারি বাজারের দামের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ নেই।’
ঝিগাতলা কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী রহমান উদ্দিন বলেন, ‘পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা পর্যায়েও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। পরিবহন খরচ, বরফ ও অন্যান্য ব্যয় যুক্ত হয়ে খরচ বেড়ে যায়। চাইলেও কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হয় না। এতে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রায়ই মনোমালিন্য তৈরি হয়।’
তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীরা কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছেন। রমজানের আগে বাজারে তেমন প্রভাব না থাকলেও রোজা শুরু হতেই দাম বাড়ানোর প্রবণতা দেখা গেছে। বাজার তদারকিতে সরকারের কার্যকর নজরদারির অভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
শরীফ উদ্দিন মিয়া নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘রোজার শুরুতেই নিত্যপণ্যের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়েছে। যে মাছ রোজার আগে ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায় কিনেছেন, তা এখন ৩৫০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। বড় মাছ কিনতে গেলে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকার নিচে নেই। মাংসের বাজারেও একই অবস্থা।’
সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারে আসা আরেক ক্রেতা জসিম উদ্দিন বলেন, রমজানে বাজার করতে এলে পকেট প্রায় খালি হয়ে যায়। আগে যে মাছ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় কিনতেন, তা এখন ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি আগে দেখেননি। তিনি বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
ইউডি/কেএস

