ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ়করণে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বিশেষ সভা
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৫:৩৫
প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনতে ছুটির দিনেই রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দাফতরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কার্যালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে তার সভাপতিত্বে ‘ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ়করণ’ বিষয়ক এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সব ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সামাজিক বৈষম্য দূর করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে তিনি উপস্থিত মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
এর আগে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তেজগাঁও কার্যালয়ে এসে পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। কার্যালয়ে প্রবেশের সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন তাকে স্বাগত জানান। দীর্ঘ সময় পর সরকারপ্রধানের এই প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
মূল ভবনে প্রবেশের আগে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী সেখানে কর্মরত বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে দায়িত্ব পালনকারী অনেককে নাম ধরে ডেকে কাছে টেনে নেন তিনি। তার এই আন্তরিক ব্যবহারে অনেক কর্মী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এরপর কার্যালয় চত্বরে একটি স্বর্ণচাঁপা ফুলের চারা রোপণ করেন এবং দেশের সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম (অব.)-সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রথম দাফতরিক স্বাক্ষর ও আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম হিসেবে প্রধানমন্ত্রী মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেন। ডাকটিকিট অবমুক্ত করার পর তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী তার নতুন কর্মস্থলে দেশের মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এর মাধ্যমেই তেজগাঁও কার্যালয়ে নতুন সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রম পূর্ণোদ্যমে শুরু হলো।
ইউডি/রেজা

