চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ ৯ জনের মধ্যে একজনের মৃত্যু

চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ ৯ জনের মধ্যে একজনের মৃত্যু

উত্তরদক্ষিণ। সোমবর, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৮:৩০

চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে গ্যাস লাইন লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ ৯ জনের মধ্যে নুরজাহান বেগম রানি (৪০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বর্তমানে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন বাকি ৮ জনের অবস্থাও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

সোমবার ভোর ৫টার দিকে হালিশহরের এইচ ব্লকের হালিমা মঞ্জিল নামে একটি ভবনের তৃতীয় তলায় এই বিস্ফোরণ ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, রাতে লাইনের লিকেজ থেকে ঘরে গ্যাস জমে ছিল।

ভোরে আগুন জ্বালাতে গেলে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তেই পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।বিস্ফোরণে দগ্ধদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, চট্টগ্রাম থেকে ৯ জন দগ্ধ রোগীকে আনা হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা নুরজাহান আক্তার রানিকে মৃত ঘোষণা করেন। তার শরীরের শতভাগ দগ্ধ ছিল।

দগ্ধ অন্যরা হলেন- শাখাওয়াত হোসেন (৪৬), তার ভাই মো. শিপন (৩১), মো. সামির আহমেদ সুমন (৪০), শাখাওয়াতের বড় ছেলে মো. শাওন (১৬), সামিরের বড় ছেলে মো. ফারহান আহমেদ আনাস (৬), শাখাওয়াতের ছোট মেয়ে মো. আইমান স্নিগ্ধা (৯), সামিরের ছোট মেয়ে আয়েশা আক্তার (৪), সামিরের স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি (৩৫)।

ডা. শাওন বিন রহমান জানান, শাখাওয়াত ও পাখি আক্তারের শরীরের ১০০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। শিপনের ৮০ শতাংশ, শাওনের ৫০ শতাংশ, সামিরের ৪৫ শতাংশ, আয়েশার ৪৫ শতাংশ, উম্মে আয়মান স্নিগ্ধার ৩৮ শতাংশ এবং আনাসের শরীরের ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক।জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন বলেন, ঘটনার পর চট্টগ্রাম থেকে রোগীদের ঢাকায় রেফার করার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছিল।

সে অনুযায়ী আমরা আগেই প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। রোগীদের আনার সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসা শুরু করা হয়েছে।তিনি জানান, কয়েকজনকে এরইমধ্যে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়েছে। বাকিদের অবস্থার পর্যবেক্ষণ শেষে প্রয়োজনে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হবে।

ইউডি/এআর

ashiqurrahman7863

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading