পাকিস্তান-আফগানিস্তান কেন যুদ্ধ করছে, কী ঘটছে সেখানে?
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ২০২৬, আপডেট ০০:৩০
সীমান্তে লড়াই করছে পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান। এর জেরে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ অন্যান্য শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষের প্রতি ইসলামাবাদের ধৈর্যের বাধ ভেঙে গেছে। তিনি ঘোষণা করেছেন, দুই দেশ এখন “খোলামেলা যুদ্ধ”র মাঝে আছে।
খাজা আসিফের এই ঘোষণা আসে তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদের বক্তব্যের পর। তিনি বলেন, আফগানিস্তান ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে “বৃহৎ পরিসরের আক্রমণাত্মক অভিযান” চালাচ্ছে। ডুরান্ড লাইন দুই দেশের সীমান্ত নির্ধারণ করে।
২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হলো। এতে এখন পর্যন্ত উভয় পক্ষ কয়েক ডজন হতাহতের খবর নিশ্চিত করেছে।
শুক্রবার পাকিস্তানের কর্মকর্তারা বলেছেন, আফগান বাহিনী সীমান্তের কাছাকাছি পাক সেনাদের অবস্থানে হামলা চালিয়েছে। যার জবাবে ইসলামাবাদ আফগানিস্তানের ভেতরে, রাজধানী কাবুলসহ অন্যান্য শহরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদক নাসের শাদিদ জানান, প্রথম পাকিস্তানি হামলা স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোর আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটে শুরু হয়। এরপর আফগান বাহিনী বিমান বিধ্বংসী গুলি চালায়।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ এক্স-এ বলেছেন, “আমাদের ধৈর্যের পেয়ালা উপচে পড়েছে। এখন আমাদের এবং তোমাদের মধ্যে খোলামেলা যুদ্ধ।”
পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার এক্স-এ লিখেছেন, কাবুল, দক্ষিণ-পূর্ব পাকতিয়া প্রদেশ এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় কান্দাহারে “আফগান তালেবানের প্রতিরক্ষা লক্ষ্যবস্তুতে” হামলা চালানো হয়েছে।
আফগান সরকারের মুখপাত্র মুজাহিদও এক্স-এ দেওয়া পোস্টে নিশ্চিত করেছেন যে, এই তিনটি প্রদেশে হামলা চালানো হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, হামলায় আফগানিস্তানের দুটি ব্রিগেড ঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে বলে দুইজন জ্যেষ্ঠ পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তা সংস্থাটিকে জানিয়েছেন। তবে গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় তারা নাম প্রকাশ করতে চাননি।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পাকিস্তান টিভি তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশটির বাহিনী তালেবানের বেশ কিছু অবস্থান “ধ্বংস” করেছে।
ওই মাধ্যমের তথ্যমতে, আফগানিস্তানে হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল কান্দাহারে তালেবানের একটি ব্রিগেড সদর দপ্তর ও গোলাবারুদ ডিপো, পাশাপাশি ওয়ালি খান সেক্টর, শাওয়াল সেক্টর, বাজাউর সেক্টর এবং আংগুর আড্ডায় তালেবান অবস্থান।
পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কয়েকটি জেলায়ও আফগান তালেবান বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে চিত্রাল, খাইবার, মোহমান্দ, কুররাম ও বাজাউর জেলা।
ইউডি/এবি

