চলমান ঋণ নবায়নের নিয়ম শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক

চলমান ঋণ নবায়নের নিয়ম শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ০৪ মার্চ, ২০২৬, আপডেট ০৮:৪০

চলমান ঋণ নবায়নের নিয়ম শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক। সীমাতিরিক্ত ঋণ পরিশোধ ছাড়া নবায়ন না করতে আট মাস আগে দেওয়া নির্দেশনা বাতিল করে মন্দ মানে খেলাপি হওয়ার আগ পর্যন্ত নবায়নের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সাল পর্যন্ত এই শিথিলতা থাকবে। আজ মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে সব ব্যাংকে পাঠানো হয়।

ব্যবসায়ী মো. মোস্তাকুর রহমান গত ২৬ ফেব্রুয়ারি গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। এক সপ্তাহ না পেরুতেই ব্যবসায়ীদের জন্য আজ দুটি সুবিধা দেওয়া হয়। মঙ্গলবারের অপর এক নির্দেশনার মাধ্যমে রপ্তানিমুখী শিল্পের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধের জন্য একবছর মেয়াদি বিশেষ ঋণ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে জারি করা সার্কুলারের ৫(ধ) নং অনুচ্ছেদে চলমান ঋণের সংজ্ঞা এবং ৬(ধ)(১) অনুচ্ছেদে উক্ত ঋণ মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সার্কুলারের ৬(ফ)(র) নং অনুচ্ছেদে ঋণের মেয়াদোত্তীর্ণ অংশ পরিশোধ না করে শ্রেণিকৃত ঋণ অশ্রেণিকৃত করার সুযোগ নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব নির্দেশনা অনুযায়ী চলমান ঋণ বিদ্যমান মেয়াদের মধ্যে সম্পূর্ণ সমন্বয় অথবা নবায়ন করতে হবে। এই নির্দেশনার আলোকে গত বছরের ২৫ জুন এক সার্কুলারের মাধ্যমে চলমান ঋণ নবায়নের ক্ষেত্রে পরিপালনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।

গতবছরের জুনের ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছিল– সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, চলমান ঋণ নবায়নের ক্ষেত্রে ঋণের সীমাতিরিক্ত অংশসহ নতুন ঋণসীমা নির্ধারণ করে নবায়ন অনুমোদন করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নবায়নের উদ্দেশ্যে সীমাতিরিক্ত অংশ আলাদা ঋণ হিসাবে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এটা ব্যাংকিং নিয়মাচারের পরিপন্থি। ব্যাংক খাতের ঋণ শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে চলমান ঋণ বিদ্যমান মেয়াদের মধ্যে নবায়ন করতে হবে। ঋণের সীমাতিরিক্ত অংশ সমন্বয় ছাড়া নবায়ন করা যাবে না। চলমান ঋণের সীমাতিরিক্ত অংশ মূল ঋণ হিসাব থেকে আলাদা করে নতুন ঋণ সৃষ্টি বা অন্য কোনো ঋণ হিসাবে স্থানান্তর করা যাবে না।

আগের এই নির্দেশনা বাদ দিয়ে আজকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে চলমান ঋণ বিদ্যমান মেয়াদের মধ্যে অনেক ক্ষেত্রে নবায়ন করা দুরূহ হয় মর্মে বাংলাদেশ ব্যাংক অবগত হয়েছে। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ব্যবসা বাণিজ্য বাধাহীনভাবে চলমান রাখতে চলমান ঋণ বিদ্যমান মেয়াদের মধ্যে নবায়ন করতে হবে। এক্ষেত্রে চলমান ঋণ মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কমপক্ষে ২ মাস আগে নবায়ন প্রক্রিয়া যেমন– গ্রাহকের আবেদন গ্রহণ, ডকুমেন্টেশন শুরু করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে প্রক্রিয়া শুরুর পরও যদি নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে নবায়ন করা না যায় তখন মেয়াদোত্তীর্ণ চলমান ঋণ বিরূপমানে শ্রেণিকৃত হওয়ার আগ পর্যন্ত নবায়ন করা যাবে। এক্ষেত্রে যথাসময়ে ঋণ নবায়ন না হওয়ার কারণসমূহ লিখে রাখতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ঋণের সীমাতিরিক্ত অংশ সমন্বয় সাপেক্ষে ঋণ নবায়ন করা যাবে। এছাড়া ঋণ সম্পূর্ণ সমন্বয় করতে হবে। চলমান ঋণের সীমাতিরিক্ত অংশ মুল ঋণ হিসাব থেকে আলাদা করে নতুন ঋণ সৃষ্টি বা অন্য কোনো ঋণ হিসাবে স্থানান্তর করা যাবে না। এ সার্কুলারে বর্ণিত নির্দেশনা ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। একই সাথে গতবছরের ২৫ জুনের নির্দেশনা বাতিল হিসেবে গণ্য হবে।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading