ঈদে নতুন নোট ছাড়বে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক, খোলাবাজারে মিলছে চড়া দামে

ঈদে নতুন নোট ছাড়বে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক, খোলাবাজারে মিলছে চড়া দামে

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ০৯ মার্চ, ২০২৬, আপডেট ১৩:১৫

ব্যাংকে নতুন টাকা না থাকলেও খোলা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে। সুযোগ বুঝে কিছু ব্যবসায়ী হাজার টাকার বান্ডেলে বাড়তি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিলেও ঈদকে কেন্দ্র করে আলাদাভাবে নতুন নোট ছাড়বে না বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ঈদ সামনে রেখে গ্রামের বাড়িতে ফিরবেন রনি আহমেদ। চুয়াডাঙায় গিয়ে যাকাত, ফিতরা, সালামি এবং স্বজনদের হাতে নতুন টাকা দিতে চান তিনি। ঈদ উপলক্ষে নতুন নোট দেয়ার এই আনন্দকে বিশেষ বলেই মনে করেন তিনি। রনি বলেন, গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে গেলে সবাইকে নতুন টাকা দিলে বেশি খুশি হয়। ঢাকায় হয়তো সহজে পাওয়া যায়, কিন্তু গ্রামে নতুন টাকা পাওয়া কঠিন।

ছোট্ট আয়তকার কাগজ হলেও নতুন নোট ঈদের আনন্দ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। প্রতি বছর দুই বড় উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার নতুন নোটের চাহিদা তৈরি হয় বাজারে। এই সুযোগে ব্যাংকের বাইরে খোলা বাজারেও নতুন টাকার বেচাকেনা জমে ওঠে। অনেকেই বেশি দাম দিয়েই নতুন নোট কিনে থাকেন।

ক্রেতা মাসুদ বলেন, ঈদের দিন ছোটোদের সালামি দিতে আমরা নতুন টাকা দিই। ফিতরার সঙ্গে নতুন টাকা দিলে একটু বাড়তি আনন্দ হয়, একটা উৎসবের আমেজ তৈরি হয়।

তবে এবার ব্যাংকে নতুন টাকা না পেয়ে অনেকেই খোলা বাজারের দিকে ঝুঁকছেন। সেখানে ১০, ২০ বা ৫০ টাকার নোটের এক হাজার টাকার বান্ডেল কিনতে অতিরিক্ত ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। ক্রেতা সুমন বলেন, ১০ টাকার নোটের একটি বান্ডেল বৃদ্ধাশ্রমের মানুষের জন্য নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যে দাম চাচ্ছে, তাতে কেনার সাহস হচ্ছে না।

আরেক ক্রেতা মহসিন বলেন, অনেকেই নতুন টাকা নিতে চান। কিন্তু যে দাম চাওয়া হচ্ছে; ১০ টাকার বান্ডেলে ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা বেশি-এই পরিস্থিতিতে টাকা কেনা সম্ভব না।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গত বছর একসঙ্গে ৯ ধরনের নোট ছাপানো হয়েছে। সমপরিমাণ নোট ছাপাতে প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহকারী কোম্পানির সীমাবদ্ধতার কারণে চাপ তৈরি হয়েছে। এখন থেকে ঈদকে কেন্দ্র করে নয়, বছরজুড়ে নতুন টাকা সরবরাহ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, একটি নোট ডিজাইন থেকে বাজারে ছাড়তে প্রায় দেড় বছর সময় লাগে। একসঙ্গে ৯ ধরনের নোট ছাড়ার উদ্যোগ নেয়ায় বড় চাপ তৈরি হয়েছিল। তাই গত বছর থেকেই এ রীতি বদলানো হয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন নোট বাজারে ছাড়া একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। এর জন্য আলাদা কোনো উপলক্ষের প্রয়োজন নেই। বাজারে ব্যবহারের অনুপযোগী নোটগুলো ধীরে ধীরে নতুন নোট দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হবে।

একই সঙ্গে খোলা বাজারে নতুন নোট বিক্রির সঙ্গে ব্যাংকের কোনো ব্যক্তি জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading