তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও কেন এই ‘টোকেন সিস্টেম’?
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ০৯ মার্চ, ২০২৬, আপডেট ১৫:০০
রাজধানীর জ্বালানি পাম্পগুলোতে তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় তেলের জন্য হাহাকার করছেন চালকরা।
সোমবার (৯ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি পেট্রোল পাম্পের সামনে শত শত যানবাহনের দীর্ঘ লাইন, যা অনেক ক্ষেত্রে মূল সড়ক পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে।পাম্পগুলোতে ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
অনেক চালক জানিয়েছেন, তারা সেহরি খেয়েই লাইনে দাঁড়িয়েছেন, তবুও কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পেতে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা সময় লাগছে।সংকট সামাল দিতে পাম্প কর্তৃপক্ষ তেল সরবরাহে রেশনিং পদ্ধতি চালু করেছে।
বর্তমানে মোটরসাইকেলে দেওয়া হচ্ছে সর্বোচ্চ ২ লিটার, প্রাইভেট কারে ১০ লিটার এবং এসইউভি বা মাইক্রোবাসে ২০-২৫ লিটার তেল দেওয়া হচ্ছে।
পাম্প মালিকদের দাবি, ডিপো থেকে সময়মতো সরবরাহ না আসায় তারা বাধ্য হয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং আপাতত দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।’আর মন্ত্রীর এই কথাতেই জাগে বড় এক প্রশ্ন।
দেশে যদি তেলের সংকট না থাকে, মজুত থাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে, তাহলে কেন এই রেশনিং সিস্টেম? কেনই বা গাড়িতে তেল নেওয়ার পর ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে টোকেন?এর উত্তরটাও দিয়েছেন জ্বালানি মন্ত্রী।
তার ভাষ্যমতে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই এমন পদ্ধতি অবলম্বন করেছে সরকার।তিনি বলেন, ‘পেট্রোল পাম্পের সামনে গেলে দেখা যায় বিশাল লাইন। যেহেতু যুদ্ধ চলছে, শোধনাগার বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।
সেজন্য আমার কাছে যে মজুত আছে, সেটা সাশ্রয়ী ব্যবহার করতে বলেছি। রেশনিং করতে বলেছি। কারণ আমরা জানি না যুদ্ধ কতদিন চলবে। তাই মজুত করার দরকার নেই। আমাদের সংকট নেই। কিন্তু রেশনিং চালু থাকবে।’
ইউডি/এআর

