‘সরকার ভুল পদক্ষেপ নিলে জামায়াত দায়িত্ব অনুযায়ী ভূমিকা পালন করবে’
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, আপডেট ২০:১৫
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকারের সব সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করবে না তার দল। আবার না বুঝে কোনও সহযোগিতাও করবে না। দেশ ও জাতির কল্যাণে সরকার যে সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, সেসব ক্ষেত্রে তাদের সমর্থন ও সহযোগিতা থাকবে। তবে দেশ ও জাতির ক্ষতি হয়, সরকার এমন পদক্ষেপ নিলে তারা দায়িত্ব অনুযায়ী ভূমিকা পালন করবেন।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে জাতীয় সংসদের এলডি হলে বিরোধীদলের সংসদীয় দলের এক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্রিফিংকালে তিনি বলেন, ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে বিরোধীদলের সব সংসদ সদস্য নিয়ে আমরা বৈঠকে বসেছিলাম। জাতির প্রত্যাশা পূরণে বিরোধীদল হিসেবে এবং নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে দেশ ও জাতির জন্য আমাদের ভূমিকা কী হবে, সেই বিষয়েই মূলত আমরা পরামর্শ করেছি।
তিনি বলেন, আমাদের সংসদীয় জোটের নির্বাচিত এমপিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। আমরা খোলামেলা আলোচনা করেছি এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ নিয়েছি। আমরা চাই, জাতীয় সংসদ দেশ ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ও অর্থবহ ভূমিকা পালন করুক।
ইতোমধ্যেই আমরা ঘোষণা করেছি, বিরোধীদল হিসেবে আমরা একটি দায়িত্বশীল বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করতে চাই।বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, প্রথমে আমরা সরকারকে ভুল ধরিয়ে দেবো, সংশোধনের সুযোগ দেবো এবং পরামর্শ দেবো।
যদি দেখি পরামর্শে কাজ হচ্ছে না, তাহলে আমরা প্রতিবাদ করবো। প্রতিবাদেও যদি কাজ না হয়, তাহলে জনগণের অধিকারের পক্ষে আমরা দৃঢ়ভাবে দাঁড়াব। আমরা চাই, প্রথম ধাপেই সমস্যার সমাধান হোক।
তিনি আরও বলেন, এটি সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। যেহেতু তারা সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ, তাই সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে অনেক কিছু করা সম্ভব। কিন্তু আলোচনার মাধ্যমে যৌক্তিক বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে সেটিই জাতির জন্য উত্তম হবে।তিনি বলেন, এই সংসদ হঠাৎ করে এভাবে গঠিত হয়নি; এটি একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে হয়েছে।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ বহুবার তার পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করতে পারেনি। স্বাধীনতার পর প্রথমবার ১৯৯১ সালে গঠিত সংসদ পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করে। এরপর ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের সংসদ পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়। কিন্তু অন্য অনেক সংসদ জনগণের গ্রহণযোগ্যতা পায়নি এবং তাদের নৈতিক বৈধতাও প্রশ্নবিদ্ধ ছিল।
তিনি বলেন, এই নির্বাচন মূলত ২০২৬ সালে হওয়ার কথা ছিল না। সংবিধান অনুযায়ী এটি ২০২৯ সালে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইউডি/এআর

