দ্বিগুণের বেশি মূল্যে এলএনজি কেনার উদ্যোগ, জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ব্যাহতের শঙ্কা!
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, আপডেট ১৪:০৫
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে খোলা বাজার থেকে প্রায় দ্বিগুণ দামে এলএনজি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। উদ্যোক্তারা বলছেন, গ্যাসের দাম বাড়লে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দেশীয় গ্যাসকূপের সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
দেশে মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পূরণ হয় এলএনজির মাধ্যমে। এর বড় অংশই আসে মধ্যপ্রাচ্যের কাতার ও ওমান থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায়। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই দুই দেশের উৎপাদন ও সরবরাহে প্রভাব পড়েছে। ফলে অন্যান্য জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশের মতো বাংলাদেশও সংকটে পড়েছে।
এ অবস্থায় ব্রিটেন ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে তিন কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে প্রতি এমএমবিটিইউ গ্যাসের দাম পড়বে ২০ থেকে ২২ ডলার, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। উদ্যোক্তারা বলছেন, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি না পেলে শিল্পের চাকা থেমে যেতে পারে। আবার ব্যয় বাড়লে উৎপাদনও কমে যাবে।
স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম বলেন, গত ছয় মাস ধরেই গ্যাসের চাপ কম। পর্যাপ্ত গ্যাস মিলছে না। এতে ঠিকমতো উৎপাদন হবে কি না এবং সময়মতো শিপমেন্ট করা যাবে কি না-সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ওয়ান ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে অন্য উপকরণের দাম আলাদা করে বাড়ানোর প্রয়োজন হয় না। স্বাভাবিকভাবেই সবকিছুর দাম বেড়ে যায়।
এই বাস্তবতায় ভর্তুকির পাশাপাশি দেশীয় গ্যাসকূপের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। অর্থনীতি বিশ্লেষক মো. মাজেদুল হক বলেন, বাংলাদেশকে আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দেশের বিদ্যমান গ্যাসকূপগুলো আরও বেশি খননের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি সমুদ্রসীমায়ও গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ নিতে হবে।
জানা গেছে, স্পট মার্কেট থেকে তিন কার্গো এলএনজি আমদানিতে টাকার হিসাবে ব্যয় হবে ২ হাজার ৬৫৪ কোটি ৫৪ লাখ ৬৩ হাজার ২৮০ টাকা। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে এ অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫ এর বিধি-১০৫(৩) (ক)-অনুযায়ী আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যুক্তরাজ্যের মেসার্স টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড থেকে এক কার্গো (৫-৬ এপ্রিল ২০২৬ সময়ের জন্য ৫ম) এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৯০৭ কোটি ৮৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩০৪ টাকা। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম পড়বে ২১.৫৮ মার্কিন ডলার।
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫ এর বিধি-১০৫(৩) (ক)-অনুযায়ী আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দক্ষিণ কোরিয়ার পোসকো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন থেকে এক কার্গো (৯-১০ এপ্রিল ২০২৬ সময়ের জন্য ৬ষ্ঠ) এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৮৭৩ কোটি ৩৪ লাখ ৯৯ হাজার ৪৮৮ টাকা। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম পড়বে ২০.৭৬ মার্কিন ডলার।
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫ এর বিধি-১০৫(৩) (ক)-অনুযায়ী আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দক্ষিণ কোরিয়ার পোসকো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন থেকেই আরেক কার্গো (১২-১৩ এপ্রিল ২০২৬ সময়ের জন্য ৭ম) এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৮৭৩ কোটি ৩৪ লাখ ৯৯ হাজার ৪৮৮ টাকা। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম পড়বে ২০.৭৬ মার্কিন ডলার।
ইউডি/রেজা

