প্রথম অধিবেশনেই জামায়াতের ওয়াক আউট
উত্তরদক্ষিণ। ব, ১১ মার্চ, ২০২৬, আপডেট ১৪:৩৩
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সংসদ ভবন। আজবিকেল ৩টা ৩৩ মিনিটে রাষ্ট্রপতি যখন সংবিধান অনুযায়ী তাঁর ভাষণ শুরু করতে যান, তখন বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সম্বলিত ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।
অধিবেশন চলাকালে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ঘোষণা দিলে বিরোধী দলের সদস্যরা নিজ নিজ আসন থেকে দাঁড়িয়ে চিৎকার শুরু করেন। এ সময় তাদের হাতে ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্যতা বন্ধ করো’, ‘জুলাই গাদ্দারি চলবে না’ এবং রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ দাবি সম্বলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
স্পিকার বারবার সংসদ সদস্যদের শান্ত হওয়ার এবং সংসদীয় রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানালেও বিরোধী জোটের সদস্যরা তা অগ্রাহ্য করে সংসদের মাঝখানে চলে আসেন। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণ শুরু করেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের অধিকার নেই—এমন দাবি তুলে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের সদস্যরা সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন।
তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতির অতীত ভূমিকা ও জুলাই বিপ্লব পরবর্তী অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ, তাই তাঁর ভাষণ তারা শুনতে রাজি নন। সংসদ কক্ষ থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময়ও তারা স্লোগান দিতে থাকেন।বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর সংসদ কক্ষের উত্তেজনা ধীরে ধীরে কমে আসে।
সরকারি দলের সদস্যদের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বিঘ্নে তাঁর ভাষণ সম্পন্ন করেন। তার ভাষণে তিনি নতুন সংসদের সাফল্য কামনা করেন এবং দেশের চলমান গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, সকালেই জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সংসদ ভবনের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি থেকে রাষ্ট্রপতির এই ভাষণের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন এবং সংসদ সদস্যদের প্রতি তা প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই উত্তাপই বিকেলে সংসদ কক্ষের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে।
ইউডি/এআর

