কুমিল্লায় হাঁটু পানিতে পরীক্ষা দিল শিক্ষার্থীরা

কুমিল্লায় হাঁটু পানিতে পরীক্ষা দিল শিক্ষার্থীরা

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, আপডেট ১৬:০৫

সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে প্রায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোথাও কোমর, আবার কোথাও হাঁটু পর্যন্ত উঠেছে পানি। পরীক্ষা কেন্দ্রেই হাঁটু ও কোমর পর্যন্ত পানি ওঠায় বেশ ভোগান্তিতে পড়ে পরীক্ষার্থীরা। কোথাও ভেজা টেবিলে আবার কোথাও দাঁড়িয়ে পরীক্ষা দিতে দেখা গেছে এসএসসি শিক্ষার্থীদের।

এ ছাড়া বৃষ্টি ও ঝড় শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নগরীতে বিদ্যুৎ চলে যায়। কোন কোন কেন্দ্রে মোমবাতি ও চার্জলাইট জ্বালিয়ে পরীক্ষা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। আবার পরীক্ষা শেষে বৃষ্টির পানিতে কোমর কিংবা হাঁটু পানি মাড়িয়ে বাড়িতে ফিরতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। এমন দৃশ্য দেখা গেছে কুমিল্লার মহানগরীর বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) নগরীতে টানা দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় হাঁটু সমান পানি জমে । ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন কর্মজীবী মানুষ, পথচারী ও শিক্ষার্থীরা।

মহানগরীর জাঙ্গালিয়া, রানীরবাজার, ইপিজেড রোড, চকবাজার, টমছমব্রিজ, মোগলটুলি, কান্দিরপাড়, শাসনগাছা, বাগিচাগাঁও, ধর্মপুর ও চর্থা এলাকায় জলাবদ্ধতা বেশি হয়েছে বলে জানা যায়। অনেক স্থানে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে, ফলে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।

ঈশ্বর পাঠশালা হাইস্কুল কেন্দ্রে পরীক্ষার পর পরীক্ষার্থীর বাবা জাবিউল আল মামুনের সঙ্গে কথা হয়। বললেন, ‘পরীক্ষা শুরু হওয়ার পরেই বিদ্যুৎ চলে গেছে। পরীক্ষা কক্ষে প্রচুর পানি প্রবেশ করেছে। পরীক্ষার্থীরা ভেজা কাপড়ে মোমবাতি ও চার্জার লাইটের আলোতে পরীক্ষা দিয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতে এ শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এর কোন সমাধান বিগত ১৭ বছরে কেউ করতে পারেনি। এ বিষয়টি দুঃখজনক।’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কুমিল্লা মহানগরীতে সবই পরিকল্পনাহীন। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো নয়, যার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই শহরে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। আর জনগণ এই ভোগান্তিতে দিন কাটায়।

কুমিল্লা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুর রহমান বলেছেন, ‘মঙ্গলবার কুমিল্লায় ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আরও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান, আমি গত মাসে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নগরীর রেইসকোর্স খাল এবং কান্দিরপাড় খাল খনন সম্পন্ন করেছি। নগরীর যে সব জায়গায় জলাবদ্ধতা হচ্ছে সেসব এলাকায চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading