সংকটের মাঝেই ১২ দিনে দেশে এলো জ্বালানিবাহী ১৬ জাহাজ
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, আপডেট ১৫:০০
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগের মাঝেই বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে গতি বজায় রয়েছে।
চলতি মার্চের প্রথম ১২ দিনেই চট্টগ্রাম বন্দরে ১৬টি জ্বালানিবাহী জাহাজ পৌঁছেছে, যা দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা ও গৃহস্থালির চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের প্রথম ১০ দিনে কাতার থেকে আসা তিনটি বড় জাহাজ— আল জুর, আল জাসাসিয়া ও লুসাইল— ১ লাখ ৮০ হাজার টনেরও বেশি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) খালাস করেছে।
এছাড়া গত ১২ মার্চ ‘আল গালায়েল’ নামক আরেকটি জাহাজ ২৬ হাজার টনের বেশি এলএনজি নিয়ে বন্দরে ভিড়েছে।অন্যদিকে, রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) আমদানিতেও তেজি ভাব দেখা গেছে।
ওমান ও মালয়েশিয়া থেকে আসা একাধিক জাহাজ ইতিমধ্যে প্রায় ২০ হাজার টন এলপিজি খালাস করেছে।
এপিক সান্টার’ ও ‘শুমি ৭’-এর মতো আরও কয়েকটি ট্যাঙ্কার বর্তমানে খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে।কেবল গ্যাস নয়, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও কারখানার জন্য প্রয়োজনীয় ফার্নেস অয়েল, ডিজেল ও লুব্রিকেন্ট তৈরির কাঁচামাল নিয়েও এসেছে বেশ কিছু জাহাজ।
সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা এসব জাহাজ প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার টন পরিশোধিত জ্বালানি বহন করে এনেছে।বিশ্বের মোট পেট্রোলিয়াম বাণিজ্যের এক-পঞ্চমাংশ হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। ইরান ও ওমানের মধ্যকার এই কৌশলগত নৌপথ নিয়ে বর্তমানে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।
এমনকি ওমান সাগরে উত্তেজনার কারণে ১ লাখ টন তেলবাহী একটি জাহাজ গত আট দিন ধরে সৌদি আরবে আটকে আছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ নৌ-কর্তৃপক্ষ এবং বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন) সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর কড়া নজর রাখছে।
বন্দর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে আরও তিনটি বড় জাহাজ— লেব্রেথা, প্রাচী এবং র্যাফেলস সামুরা— ১৪ মার্চের মধ্যে বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।নিয়মিত জাহাজ আসার ফলে রমজান মাসে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পরিবহন খরচ ও বিমা ফি বাড়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।
ইউডি/এআর

