হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানো সহজ নয়: জাপান

হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানো সহজ নয়: জাপান

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, আপডেট ১৪:০৫

জাপানের ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) নীতি বিষয়ক প্রধান তাকায়ুকি কোবায়াশি বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের সুরক্ষায় টোকিওর যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আইনি বাধাগুলো ‘খুব কঠিন’।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্যান্য দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালি সচল রাখার কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানোর কয়েক ঘণ্টা পরেই মিত্র দেশ জাপানের পক্ষ থেকেই এই মন্তব্য এলো। খবর দ্য স্টারের।

আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর দুই সপ্তাহ পরও উপসাগরীয় অঞ্চলটি এখনো সংঘাতের কবলে রয়েছে। ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় এবং উপসাগরীয় জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোয় তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।

মার্কিন নৌবাহিনী ‘খুব শিগগির’ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়া শুরু করবে- শনিবার (১৪ মার্চ) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি জাপানসহ অন্যান্য দেশগুলোকেও যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানান।

বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপান হলো তেলের পঞ্চম বৃহত্তম আমদানিকারক। দেশটিতে ব্যবহৃত তেলের ৯৫ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এবং এর মধ্যে ৭০ শতাংশই হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসে, যা বর্তমানে কার্যকরভাবে বন্ধ রয়েছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির নীতি বিষয়ক প্রধান তাকায়ুকি কোবায়াশি রবিবার (১৫ মার্চ) রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন এনএইচকে-র এক রাজনৈতিক বিতর্ক অনুষ্ঠানে বলেন, “বিদ্যমান জাপানি আইনের অধীনে এই অঞ্চলে জাপানি নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠানোর জন্য আমি সীমাটিকে খুবই উচ্চ বা কঠিন বলে মনে করি।”

তিনি আরও বলেন, “আইনগতভাবে আমরা সম্ভাবনাটি নাকচ করছি না, তবে বর্তমান চলমান সংঘাতের পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি এমন কিছু যা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।”

জাপানের ‘সেলফ-ডিফেন্স ফোর্স’ (এসডিএফ) বিদেশে পাঠানো রাজনৈতিকভাবে একটি স্পর্শকাতর বিষয়। কারণ, জাপানের অনেক ভোটার মার্কিন-আরোপিত ১৯৪৭ সালের সংবিধানে বর্ণিত ‘যুদ্ধ-পরিত্যাগ’ বা শান্তিবাদী নীতি সমর্থন করেন।

গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি পার্লামেন্টের এক অধিবেশনে বলেছিলেন, ট্যাঙ্কার পাহারার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে জাপানি যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হবে কি না, সে বিষয়ে ‘এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি’।

তাকাইচি এই সপ্তাহে ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সেখানে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং ইরান যুদ্ধসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

কোবায়াশি বলেন, তিনি চান তাকাইচি ট্রাম্পের এই সেনা বা সাহায্য পাঠানোর আহ্বানের পেছনে তার ‘প্রকৃত উদ্দেশ্য কী’ তা যেন নিশ্চিত হন।

তিনি আরও আশা করেন, দুই নেতা আলোচনা করবেন কীভাবে টোকিও এবং ওয়াশিংটন ‘একত্রে কাজ করতে পারে যাতে পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোতে কোনো শূন্যতা তৈরি না হয়’। কারণ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার ঘাঁটি থেকে ইতিমধ্যে মার্কিন সেনাদের পারস্য উপসাগরে পাঠানো হচ্ছে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading