ইরানে যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতা করছে তিন দেশ, দাবি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, আপডেট ১১:০৫
ইরানে যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করছে আঞ্চলিক শক্তিগুলো। তুরস্ক, মিশর ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা পৃথকভাবে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে তিনি বলেন, গত দুই দিনে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ‘অত্যন্ত চমৎকার ও ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, এ আলোচনার লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যে শত্রুতার চূড়ান্ত অবসান। এরপর ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
ট্রাম্পের এমন ঘোষণার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানির দাম কমতে শুরু করে এবং চাঙ্গা হতে থাকে শেয়ারবাজার। কিন্তু আলোচনার দাবি প্রত্যাখ্যান করে ইরানের গণমাধ্যমগুলো। ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের কোনো ধরনের আলোচনা বা যোগাযোগ হয়নি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতির বরাতে মেহের নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কোনো সংলাপ চলছে না। ট্রাম্পের এই বক্তব্য মূলত ‘বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর একটি অপকৌশল’ এবং তার সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সময়ক্ষেপণ।
ইরানের সংবাদ সংস্থা ফারস নাম উল্লেখ না করে একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বা কোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমেও ইরানের যোগাযোগ হয়নি। সূত্রের দাবি, উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইসরাইলের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ইরান পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দেয়ার পর ট্রাম্প মূলত ‘পিছু হটেছেন’।
আল জাজিরা জানায়, ইরান সরকারের ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তার কাছ থেকে এখনও সরাসরি আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সময় সোমবার (২৩ মার্চ) ইরানের বিরুদ্ধে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে তুরস্ক, মিশর ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা পৃথকভাবে আমেরিকা ও ইরানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে জানায় মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক হয় বলে জানায় মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি। যুদ্ধ বন্ধ এবং অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান নিয়েই মূলত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধের অবসান এবং জমতে থাকা সব সমস্যার সমাধান। এরপর মেহর নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, উত্তেজনা কমানোর জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং তেহরান চায়, যুদ্ধ শুরু করা পক্ষ হিসেবে ওয়াশিংটন যেন এতে সরাসরি অংশগ্রহণ করে।
ইউডি/রেজা

