পাচার অর্থ ফেরত ও পুলিশ সংস্কারে সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতার আশ্বাস
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, আপডেট ১৪:৩৭
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি। বুধবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, সন্ত্রাসবাদ দমন, সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা, পুলিশসহ বিভিন্ন খাতে সংস্কার, আর্থিক সংস্কার, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ, স্ক্যামসহ ডিজিটাল প্রতারণা প্রতিরোধ, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সাক্ষাতের শুরুতে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান এবং রাষ্ট্রদূত নতুন পোর্টফোলিওতে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। আমরা প্রকৃত সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা করতে চাই। দেশের সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ আয়োজনসহ সকল গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। তবে তা সতর্কতার সাথে করতে হবে যাতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়।’
বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে অতিমাত্রায় বল প্রয়োগ করতে পুলিশকে ব্যবহার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
সম্প্রতি অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত (১৬-১৭ মার্চ) ‘গ্লোবাল ফ্রড সামিট ২০২৬’-এ অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে মন্ত্রী জানান, স্ক্যাম বা ডিজিটাল প্রতারণা বর্তমানে বিশ্বের মোট প্রতারণার প্রায় ৪০ শতাংশ। এটি একটি বৈশ্বিক সংকট এবং আন্তঃদেশীয় সহযোগিতা ছাড়া এটি পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রদূতও ডিজিটাল প্রতারণাকে একটি উদ্বেগের বিষয় হিসেবে অভিহিত করেন এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ শাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের কাউন্সেলর আলবার্তো জিওভানেত্তি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ‘ইউনাইটেড নেশনস অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম’ (UNODC)-এর দক্ষিণ এশীয় বিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক ক্রিস্টিয়ান হোলজ এক পৃথক বৈঠকে মিলিত হন।
ইউডি/এআর

