জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় যে পদক্ষেপ নিলো দক্ষিণ কোরিয়া

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় যে পদক্ষেপ নিলো দক্ষিণ কোরিয়া

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, আপডেট ১৫:৩০

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়ায় জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে সংকট মোকাবিলায় আগামী পাঁচদিনের জন্য গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার। আজ বুধবার (২৫ মার্চ) থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে।

সাধারণ নাগরিক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও স্বেচ্ছায় এই সাশ্রয় অভিযানে অংশ নিয়ে জাতীয় সংকটে পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এর মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ব্যারেল পেট্রোলিয়াম সাশ্রয় হতে পারে।

আমেরিকা ও ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসনের জবাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি এর দামও বহুগুণ বেড়ে গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপ সরাসরি আঘাত হেনেছে এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ অর্থনীতির দেশ দক্ষিণ কোরিয়ায়। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় কঠোর অবস্থানে গেছে সিউল। সরকারি খাতের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য ‘পাঁচ দিনে এক দিন’ গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখার নিয়ম বাধ্যতামূলক করেছে দেশটির সরকার।

গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাজধানী সিউলে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জলবায়ু, জ্বালানি ও পরিবেশমন্ত্রী কিম সং-হোয়ান এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। আজ বুধবার রাত ১২টা থেকে দেশজুড়ে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে।

বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের প্রেক্ষিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বর্তমানে চরম হুমকির মুখে রয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার সরকারি খাত থেকেই কঠোর জ্বালানি সাশ্রয়ী নীতি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নতুন এই নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ব্যক্তিগত গাড়ি এবং সরকারি খাতের যানবাহনগুলো সপ্তাহে একদিন সড়কে নামানো নিষিদ্ধ থাকবে। গাড়ির লাইসেন্স প্লেটের শেষ সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে এই বিধিনিষেধ কার্যকর হবে।

তবে নিয়ম না মানলে রয়েছে কঠোর শাস্তির বিধান। গর্ভবতী নারী, নবজাতক সন্তান রয়েছে এমন অভিভাবক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, এবং ইলেকট্রিক ও হাইড্রোজেনচালিত যানবাহন এ নিয়মের বাইরে থাকবে।

এদিকে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিশ্বে প্রথম দেশ হিসেবে জাতীয় জ্বালানি সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে ফিলিপিন্স। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading