বেগম জিয়ার আমলে মানুষ কেন ভাল থাকল, এই কারণে ১৭ বছর ভুগেছি: চিফ হুইপ
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল, ২০২৬, আপডেট ১৩:০৫
বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আমলে দেশের মানুষ কেন ভালো থাকলো, এই কারণে বিএনপি ১৭ বছর ভুগেছে বলে মন্তব্য করেছেন সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি।
স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে রাজধানীতে সাংস্কৃতিক দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই মন্তব্য করেন তিনি।
চিফ হুইপ বলেন, ‘স্বাধীনতাকে অরক্ষিত রেখে শেখ মুজিবুর রহমান আত্মসমর্পণ করলেন। সিরাজকে জিজ্ঞেস করলেন, সিরাজ কত মানুষ মারা গেছে? বিবিসির সাংবাদিক সিরাজ জানান, ৩ লাখ। শেখ মুজিব সেটাকে ৩ মিলিয়ন বানিয়ে ফেললেন। এটা সিরাজেরই বক্তব্য। জিয়া উদ্যানে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মরদেহ নাই, ওখানে কলা গাছ আছে- সংসদে দাঁড়িয়ে এ কথা বলেছেন শেখ হাসিনা।’
বাঙালি ও বাংলাদেশিদের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করে যখন শেষ হয়ে গেছে, তখন জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসেছিলেন। তিনি বহুদলীয় রাজনীতি প্রবর্তন করেছেন। জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন। তিন বছরের মাথায় খাদ্য সংকট দূর হয়ে গিয়েছিল। তারেক রহমানও একই পথে হাঁটছেন। অনেক কর্মসূচির পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ করবো আমরা।’
তারেক রহমান টাকা চুরি করতে আসেননি উল্লেখ করে নুরুল ইসলাম বলেন, ‘২৭ লাখ কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ দেশের টাকা পাচার করেছে। যুবলীগের সদস্যদের অস্ত্র নিতে কোনো লাইসেন্স লাগত না। তারা চাইলেই অস্ত্রের লাইসেন্স পেতেন।’
মুজিব বাহিনীর নৃশংস কর্মযজ্ঞ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মুজিব বাহিনীর লোকেরা কতটা নৃশংস ছিল। বাবা মায়ের সামনে ছেলেকে গুলি করে হত্যা করেছে। বাবার হাতে কুড়াল দিয়ে ছেলের শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করানো হয়েছে। লাশ কুকুরে খেয়েছে, পচন ধরার আগ পর্যন্ত কবর দিতে দেয়নি। এটা হলো মুজিব বাহিনী।’
চিফ হুইপ বলেন, ‘নানা অসঙ্গতি থেকে জিয়াউর রহমান দেশটাকে বের করে এনেছিলেন। কিন্তু ফলাফল? আমরা জিয়াউর রহমানকে হত্যা করলাম। বেগম জিয়ার আমলে দেশের মানুষ কেন ভাল থাকলো, কেন দেশের উন্নতি হলো? শুধু এসব কারণে আমরা ১৭ বছর ভুগেছি।’
একটা ভঙ্গুর অর্থনীতি হাতে নিয়ে তারেক রহমান কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড প্রচলন করেছেন বলেও উল্লেখ করেন নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘দুবারের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবে না। তারেক রহমান এমন প্রস্তাবনা রেখেছেন।’
প্রধানমন্ত্রীকে সাশ্রয়ী উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, ‘তিনি নিজের অফিসে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করেন। সেন্ট্রাল এসি চালান না। নিজের কক্ষের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রটাও বন্ধ রাখেন। খুব দরকার না হলে চালান না। বিমান বন্দরে বিদায় জানাতে চারজনের বেশি থাকতে নিষেধ করেছেন তিনি। ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতনের ব্যবস্থা করেছেন। রাষ্ট্রীয় কোষাগারের টাকায় ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেতন হয়নি কখনো। এটা তারেক রহমান করে দেখিয়েছেন। নির্বাচনে জয়লাভ করে বিরোধী দলীয় নেতার বাসায় গেছেন, দেখা করেছেন, কথা বলেছেন। যা এর আগে কেউ করেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারেক রহমান সকাল ৯টার আগে অফিসে আসেন। রাত ৩টার সময় টেলিফোন করলেও তাকে পাওয়া যাবে। উনি দেশটা নিয়ে স্বপ্ন দেখেন।’
বিএনপি জুলাই সনদ নিয়ে এসেছে দাবি করে নুরুল ইসলাম বলেন, ‘একটা দল আট দফা দিয়েছিল। জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন চেয়েছিল। নতুন করে সংবিধান লিখতে চাইল, এরপর হাসিনার বিচার চাই, এরপর পিআর চাই, পিআর দিতেই হবে, না দিলে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। সেই তো নির্বাচন হলো। একই দিনে ভোট হলে সমস্যা কী? ভোট হয়নি? হয়েছে তো।’
তিনি বলেন, ‘যারা সরকারে বসবে তারা তাদের মতো করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে, এটাই লেখা আছে। তারেক রহমান বলেছেন আমরা জুলাই সনদের পক্ষে। সনদের প্রতিটি বিষয় অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন।’
ইউডি/কেএস

