ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের বিশাল বাজেট প্রস্তাব, মার্কিন রাজনীতিতে উত্তাপ

ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের বিশাল বাজেট প্রস্তাব, মার্কিন রাজনীতিতে উত্তাপ

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৬, আপডেট ১২:০৩

ইরান যুদ্ধের ব্যয় সামাল দিতে বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেট প্রস্তাব করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। যা মার্কিন সামরিক দফতর পেন্টাগনের গেল এক বছরে ৪০ শতাংশের বেশি ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব। এ নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি একজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও ট্রাম্পের প্রস্তাবের সমালোচনা করেছেন।

ইরান যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রস্তাব করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কাছে এই প্রস্তাব পেশ করা হয়। এটি গত এক বছরে পেন্টাগনের ৪০ শতাংশের বেশি ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সর্বোচ্চ।

যুদ্ধের আর্থিক চাপ এই বাজেটে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুদ্ধদ্বার কংগ্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে, এই যুদ্ধে আমেরিকার প্রতিদিনের খরচ প্রায় ২০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও অস্ত্রের ঘাটতি পূরণ এবং সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতেই এই বর্ধিত বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন ট্রাম্প।

প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়াতে গিয়ে অভ্যন্তরীণ খাতে বাজেট কাটছাঁটের প্রস্তাব দিয়েছে হোয়াইট হাউস। যা পরিবেশ রক্ষা, আবাসন সহায়তা এবং শিক্ষা খাতের মতো জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে ডে-কেয়ার ও মেডিকেয়ারের মতো সামাজিক খাতের ব্যয় রাজ্য সরকারের ওপর ছেড়ে দেয়ার ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প।

তবে এই বাজেটের তীব্র বিরোধিতা করেছেন ডেমোক্র্যাটরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে তারা জানায়, আমেরিকার জনগণ স্বাস্থ্যসেবা চায়, যুদ্ধ নয়। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে এক হঠকারী যুদ্ধে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া একজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা জন কার্টিস ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের বাজেট নিয়ে সসালোচনা করেছেন। কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা না করলে তিনি সামরিক অভিযানের জন্য অর্থায়নে সমর্থন করবেন না বলে জানিয়েছেন।

ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি জন কার্টিস বলেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করলেও, এ ধরনের অভিযান চালিয়ে যেতে হলে আমেরিকার কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করা উচিত।

এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে কার্টিস বলেন, ‘আমরা সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখা এবং মজুত পুনরায় পূরণ করার পক্ষে থাকলেও, কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণার আগে অতিরিক্ত সামরিক অভিযানের জন্য অর্থায়নকে আমি সমর্থন করতে পারি না।’

আমেরিকার সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত থাকলেও, বাস্তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা প্রায়ই আইনপ্রণেতাদের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন বা ঘোষণা ছাড়াই সামরিক অভিযান পরিচালনার ব্যাপক ক্ষমতা দাবি করে থাকেন।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading